Middle East Conflict

হরমুজের কাছে লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী এলপিজি ট্যাঙ্কারে ড্রোন হামলা, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন ন'জন ভারতীয়

রবিবার হরমুজ প্রণালীর পূর্বমুখী এলাকায় লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী একটি এলপিজি ট্যাঙ্কারে ড্রোন হামলা চালানো হয় বলে ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। হামলার সময় জাহাজটিতে ন’জন ভারতীয়-সহ মোট ১৯ জন নাবিক ও কর্মী ছিলেন।

হরমুজ প্রণালী।
নিজস্ব সংবাদদাতা, আমেরিকা
  • শেষ আপডেট: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১:৩০

হরমুজ প্রণালীর কাছে ফের একটি জাহাজে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটল। ‘ডিরেক্টরেট অফ মেরিটাইম অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’-এর রিপোর্ট উদ্ধৃত করে এই খবর জানিয়েছে ‘হিন্দুস্তান টাইমস’। রবিবার হরমুজ প্রণালীর পূর্বমুখী এলাকায় লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী একটি এলপিজি ট্যাঙ্কারে ড্রোন হামলা চালানো হয় বলে ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। হামলার সময় জাহাজটিতে ন’জন ভারতীয়-সহ মোট ১৯ জন নাবিক ও কর্মী ছিলেন।

জানা গিয়েছে, হামলার শিকার হয়েছে লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী এলপিজি ট্যাঙ্কার এমটি আল মারিয়াহ। ড্রোন হামলায় জাহাজটির কোনও নাবিক বা কর্মী আহত হননি। জাহাজের বিদ্যুৎ সরবরাহও সচল ছিল। ইঞ্জিনেরও কোনও ক্ষতি হয়নি বলে জানা গিয়েছে। হামলার পর দ্রুত জাহাজটিকে ওই এলাকা থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে সেটি খোর ফাকান এলাকায় রয়েছে। তবে কারা এই হামলা চালিয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ঘটনার তদন্ত চলছে।

পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত কবে থামবে, তা নিয়ে উদ্বেগে পুরো বিশ্ব। যুদ্ধের আঁচ পড়েছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহণেও। বিশেষ করে নজরে এসেছে হরমুজ প্রণালী। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ জ্বালানি ও পণ্যবাহী জাহাজ যাতায়াত করে। সংঘাতের জেরে সেই জাহাজ চলাচলও কার্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। আমেরিকার সঙ্গে সংঘাতে জড়ানোর পর থেকেই হরমুজ প্রণালী নিয়ে ইরান কড়া অবস্থান নিয়েছে। তেহরানের দাবি, ওই জলপথে তাদের অধিকার বজায় থাকবে। ইরানের অনুমতি ছাড়া হরমুজ দিয়ে কোনও জাহাজ চলাচলের চেষ্টা করলে হামলার মুখে পড়তে হতে পারে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। ফলে নিরাপত্তা ও বিমার অতিরিক্ত খরচ বেড়েছে জাহাজগুলির। কার্যত ‘টোল’-এর মতোই সেই অতিরিক্ত খরচের বোঝা চাপছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে।

ইরানের দাবি, আমেরিকা তাদের শর্ত মেনে নিলেই হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি খুলে দেওয়া হবে। অন্য দিকে, ওয়াশিংটনের অবস্থান সম্পূর্ণ বিপরীত। ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের বক্তব্য, হরমুজ় প্রণালীর উপর ইরানের একচেটিয়া অধিকার মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ কোনও একটি দেশের নিয়ন্ত্রণে থাকতে পারে না বলেই দাবি আমেরিকার। সংঘাতের আবহে গত কয়েক মাসে হরমুজ প্রণালীতে একাধিক জাহাজ হামলার মুখে পড়েছে। গত জুলাইয়ে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির দু’টি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়ার অভিযোগ ওঠে। সেই হামলায় এক ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয়। এর আগেও হরমুজ প্রণালীতে হামলার ঘটনায় ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে রাষ্ট্রপুঞ্জেও সরব হয়েছে নয়াদিল্লি। ফলে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের পাশাপাশি হরমুজ প্রণালী ঘিরে ইরান-আমেরিকা টানাপড়েনও এখন আন্তর্জাতিক মহলের নজরে।


Share