Business Strategy

‘আমেরিকা যুদ্ধ শুরু করেছে, চুপ থাকবে না কানাডা’, ট্রাম্পের ৫০% শুল্কের পাল্টা কার্নির কড়া হুঁশিয়ারি, ৮ সেপ্টেম্বর থেকে আমেরিকার পণ্যে নতুন কর

কার্নির বক্তব্য, আমেরিকা নতুন করে শুল্ক আরোপ করে কার্যত কানাডার বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধ’ শুরু করেছে। এই পরিস্থিতিতে কানাডা নীরব থাকবে না বলেও তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন। কানাডার প্রধানমন্ত্রীর কথায়, ‘‘আক্রমণের শিকার হলেই যুদ্ধ শুরু হয়। আমরা আক্রান্ত হয়েছি।’’

(বাঁ দিকে) কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (ডান দিকে)।
নিজস্ব সংবাদদাতা, আমেরিকা
  • শেষ আপডেট: ২৪ আগস্ট ২০২৬ ১০:৩১

আমেরিকা ও কানাডার মধ্যে ফের তীব্র হচ্ছে শুল্ক-সংঘাত। কানাডার উপর নতুন করে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা করেছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর পরেই কানাডা পাল্টা কড়া বার্তা দিয়েছে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ‘ডলারে ডলারে’ হিসাব মেটানোর হুঁশিয়ারি আগেই দিয়েছিলেন। এ বার তিনি জানিয়ে দিলেন, কবে থেকে আমেরিকার পণ্যের উপর পাল্টা তাঁর দেশ শুল্ক চাপাতে চলেছে। কার্নির বক্তব্য, আমেরিকা নতুন করে শুল্ক আরোপ করে কার্যত কানাডার বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধ’ শুরু করেছে। এই পরিস্থিতিতে কানাডা নীরব থাকবে না বলেও তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন। কানাডার প্রধানমন্ত্রীর কথায়, ‘‘আক্রমণের শিকার হলেই যুদ্ধ শুরু হয়। আমরা আক্রান্ত হয়েছি।’’

কার্নি জানান, দুগ্ধজাত পণ্য, ইস্পাত, গৃহস্থালির সরঞ্জাম, কৃষি যন্ত্রপাতি ও কাগজ-সহ একাধিক আমেরিকার পণ্য কানাডার বাজারে বিক্রি করতে গেলে এ বার অতিরিক্ত শুল্ক দিতে হবে। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন হারে এই শুল্ক কার্যকর হবে। কার্নির বক্তব্য, আমেরিকা তাদের শুল্কনীতি পরিবর্তন করলে কানাডাও আমেরিকার অ্যালুমিনিয়াম, ইস্পাত এবং গাড়ির উপর আরোপ করা পাল্টা শুল্ক প্রত্যাহার করত। কিন্তু ওয়াশিংটন সেই পথে না হাঁটায় অটোয়াকেও নিজেদের অবস্থান বদলানোর কোনও কারণ দেখছে না।

কানাডার সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পরই আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের কথা ঘোষণা করেছিলেন। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির দাবি, ট্রাম্প প্রশাসনের দেওয়া শর্ত মেনে নেওয়া অটোয়ার পক্ষে সম্ভব ছিল না। আমেরিকার প্রস্তাব গ্রহণ করলে কানাডার গুরুত্বপূর্ণ শিল্পগুলি দুর্বল হয়ে পড়ত বলেও তিনি মন্তব্য করেন। কার্নির কথায়, ‘‘আমরা কখনওই কানাডার সার্বভৌমত্বের সঙ্গে আপস করতে পারব না। আমেরিকার প্রস্তাব গ্রহণ করলে আমাদের প্রধান শিল্পগুলি দুর্বল হয়ে পড়ত।’’ তাঁর সংযোজন, ‘‘আলোচনার শুরু থেকেই আমরা বুঝতে পেরেছিলাম আমেরিকা কী চাইছে। ওরা পুরো পাল্টে গিয়েছে। এই অবস্থায় আমেরিকার সঙ্গে পুরনো সম্পর্কে ফিরে যাওয়া এখনই সম্ভব নয়।’’

কানাডার বিরুদ্ধে পাল্টা সুর চড়িয়েছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও। বাণিজ্যিক আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার জন্য সরাসরি কানাডাকেই দায়ী করেছেন তিনি। ট্রাম্পের অভিযোগ, কানাডা স্বাধীন দেশ হলেও আমেরিকার একটি প্রদেশের মতো সুযোগ-সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে মার্কিন কৃষিপণ্যের উপর কানাডার চড়া শুল্ক আরোপের অভিযোগও তিনি তুলেছেন।

গত কয়েক মাস ধরে বাণিজ্যিক চুক্তি নিয়ে আমেরিকা ও কানাডার মধ্যে একাধিক দফায় আলোচনা চলছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনও সমঝোতায় পৌঁছোতে পারেনি দুই দেশ। এর আগেই ট্রাম্প কানাডার পণ্যের উপর উচ্চহারে শুল্ক চাপানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। ঘোষণা করা হয়েছিল, ২২ অগস্ট থেকে কানাডার প্রায় দু'হাজার কোটি ডলার মূল্যের পণ্যের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক বসবে। তবে দু’দেশের মধ্যে আলোচনা চলায় সেই সিদ্ধান্ত সাময়িক ভাবে পিছিয়ে দেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত শনিবার থেকে ওই শুল্ক কার্যকর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস।


Share