Terrorism

ঢাকার কলেজের মসজিদ থেকে আটক ২৩ জন সন্দেহভাজন জঙ্গি, তাদের ১১ জনের মুক্তি, দাবি বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

বাংলাদেশের নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের সদস্যরা শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে এসে ওই মসজিদে জড়ো হবে খবর পায়। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই অভিযান চালিয়ে ২৩ জনকে আটক করা হয়।

বাংলাদেশের মসজিদে নমাজ চলাকালীন আটক জঙ্গি।
নিজস্ব সংবাদদাতা, বাংলাদেশ
  • শেষ আপডেট: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৮:১৯

বাংলাদেশে নতুন জঙ্গি সংগঠন তৈরির জন‍্য মসজিদে চলছিল গোপন বৈঠক। ঢাকার তেজগাঁওয়ের একটি কলেজে ঘটনাটি ঘটেছে। গত শুক্রবারের নমাজের পরে সেখানে অভিযান চালিয়ে ২৩ জনকে পুলিশ আটক করে। ‘ইত্তেহাদুল উম্মাহ’ নামে একটি জঙ্গি সংগঠন তৈরির জন‍্য বৈঠক চলছিল বলে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছে।

বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ঢাকার তেজগাঁও কলেজের মসজিদে গোয়েন্দা সূত্রে খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালায়। বাংলাদেশের নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের সদস্যরা শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে এসে ওই মসজিদে জড়ো হবে খবর পায়। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই অভিযান চালিয়ে ২৩ জনকে আটক করা হয়।

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আটক যুবকদের প্রথমে তেজগাঁও থানায় নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (CTTC), অ্যান্টি-টেররিজম ইউনিট (ATU) এবং অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার কর্তারা থানায় পৌঁছে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। ওই দিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে আটক ২৩ জনকে পুলিশ ভ্যানে করে মিন্টো রোডের CTTC দফতরে নিয়ে যাওয়া হয়।

জিজ্ঞাসাবাদের সময় আটক ব্যক্তিদের একজন, নিজের নাম শিহাব উদ্দিন বলে পরিচয় দিয়ে দাবি করে বলে ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তারা কলেজের মসজিদে ব্যবসা সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা করছিল। তার বক্তব্য, বৈঠকে আসার আগে তারা একে অপরকে চিনত না। এমনকী, পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ব্যক্তিকেও নাকি চিনত না বলে দাবি করেছে সে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের রমনা বিভাগের গোয়েন্দা শাখার পরিদর্শক আখতার মোরশেদ জানান, আটক ব্যক্তিরা বিভিন্ন জায়গা থেকে এসে মসজিদে জড়ো হয়েছিল। CTTC প্রধান মহম্মদ শামসুল হক জানান, আটক ব্যক্তিরা একটি ‘গোপন বৈঠক’ করছিল। তবে বৈঠকের আলোচ্যসূচি বা অন্যান্য বিস্তারিত তথ্য তিনি প্রকাশ করেননি তিনি।

রবিবার সাংবাদিকদ বৈঠক করেন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। তাঁর দাবি, তেজগাঁওয়ের মসজিদে আটক ব্যক্তিদের একটি অংশ ‘ইত্তেহাদুল উম্মাহ’ নামে একটি নতুন জঙ্গি সংগঠন গড়ে তোলার চেষ্টা করছিল। ইসলামিক জঙ্গিরা বাংলাদেশে খিলাফত প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে সংগঠনটি তৈরি করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নামাজের পর বৈঠক চলাকালীন ২৩ জনকে আটক করা হয়েছিল। পরে তাঁদের মোবাইল ফোনের ফরেন্সিক বিশ্লেষণ এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। যাঁদের বিরুদ্ধে কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি, এমন ১১ জনকে তাঁদের অভিভাবকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

এই নতুন ইসলামিক জঙ্গি সংগঠনের সাংগঠনিক কাঠামো, নেতৃত্ব বা ভবিষ্যৎ কার্যকলাপ সম্পর্কে এখনও বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। তাদের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলি বিষয়টি তদন্ত করছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।


Share