Pakistan Crisis

আত্মঘাতী বিস্ফোরণে কাঁপল পাকিস্তানের ডেরা ইসমাইল খানের পুলিশ চেকপোস্ট! ১২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় অ‍্যাম্বুলেন্স লক্ষ্য করে গুলি বর্ষণ বিদ্রোহীদের

ডেরা ইসমাইল খান-কোয়েটা সড়কের আমন মেলা পুলিশ চেকপোস্টকে লক্ষ্য করে হামলাটি চালায় বিদ্রোহীরা। বিস্ফোরক বোঝাই একটি গাড়ি চেকপোস্টে সজোরে ধাক্কা মারে। তার পরেই জোরালো বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে এলাকা। বিস্ফোরণের তীব্রতায় ঘটনাস্থলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ায় পুলিশের চেকপোস্টে আত্মঘাতী বিস্ফোরণ।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০১:০২

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ায় পুলিশের চেকপোস্টে আত্মঘাতী বিস্ফোরণ। ঘটনায় ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে। নিহতদের মধ্যে দুই মহিলা এবং দুই বছরের একটি শিশুও রয়েছে। হয়েছেন ৩৫ জনেরও বেশি মানুষ জখম হয়েছে। তাঁদের কয়েক জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে দাবি করা হয়েছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে বলে সেই দেশের সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে।

পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডেরা ইসমাইল খান-কোয়েটা সড়কের আমন মেলা পুলিশ চেকপোস্টকে লক্ষ্য করে হামলাটি চালায় বিদ্রোহীরা। বিস্ফোরক বোঝাই একটি গাড়ি চেকপোস্টে সজোরে ধাক্কা মারে। তার পরেই জোরালো বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে এলাকা। বিস্ফোরণের তীব্রতায় ঘটনাস্থলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ডেরা ইসমাইল খানের আঞ্চলিক পুলিশ কর্মকর্তা গোলাম মুবাশির জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে ছ’জন পুলিশকর্মী এবং পাকিস্তানের কাস্টমসের দুই আধিকারিক রয়েছেন। ফেডারেল বোর্ড অব রেভিনিউ জানিয়েছে, নিহত দুই কাস্টমস আধিকারিক হলেন হাভালদার ফারমানুল্লাহ এবং সিপাই উসামা। আরও চরজন কাস্টমস কর্মী জখম হয়েছেন।আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে ২৫ জনকে জেলা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

ওই প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় একটি অ্যাম্বুল্যান্স লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছে। পাকিস্তানের বিদ্রোহীদের গুলিতে অন্তত দুইজন উদ্ধারকর্মী নিহত হন। বিস্ফোরণের পর এলাকায় বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান শুরু হয়েছে।

বিদ্রোহীদের কার্যকলাপে জেরবার পাকিস্তান। সাম্প্রতিক সময়ে হামলার ঘটনা তাঁরা বেড়েছেন। ডেরা ইসমাইল খানের পুলিশ চেকপোস্টে হামলার মাত্র এক সপ্তাহ আগে খাইবার পাখতুনখোয়ার কোহাট পুলিশ লাইন্সের ভিতরে একটি মসজিদে বিস্ফোরণ ঘটেছিল। শুক্রবারের নামাজ চলাকালীন ওই বিস্ফোরণের ঘটনায় ২২ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ১৬ জন পুলিশকর্মী ছিলেন। আহত হয়েছিলেন আরও ১০৩ জন। বিস্ফোরক বোঝাই একটি গাড়ি পুলিশ লাইন্সের পুরনো গেটে ধাক্কা মারার পর বিস্ফোরণ ঘটে। এরপর নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে জঙ্গিদের গুলির লড়াই শুরু হয়। সংঘর্ষের সময় স্পেশাল ব্রাঞ্চ ভবনেও আরও একটি আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটে। আহতদের মধ্যে ৭৩ জন পুলিশকর্মী এবং ৩০ সাধারণ নাগরিক ছিলেন বলে দাবি করে পাকিস্তান।

ওই ঘটনায় সেন্ট্রাল পুলিশ অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ওই অভিযানে আটজন পাকিস্তান বিদ্রোহী নিহত হয়। শুক্রবারের ফজরের নমাজের পর পাকিস্তান সেনাবাহিনীও অভিযানে যোগ দেয়। পুলিশ লাইন্সের ভিতরে লুকিয়ে থাকা শেষ দুই পাকিস্তানের বিদ্রোহীকে হত্যা করা হয়।


Share