Cuban-America Crisis

কিউবার জলসীমায় ঢুকে পড়ল আমেরিকার স্পিডবোট, গুলিবৃষ্টিতে ৪ জনের মৃত্যু

সন্ধ্যায় কিউবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এক বিবৃতিতে জানায়, ফ্লোরিডায় নথিভুক্ত স্পিডবোটটি কিউবার জলসীমার অনেক গভীরে ঢুকে পড়েছিল। সেটিকে চিহ্নিত করতে কিউবার সীমান্তরক্ষী বাহিনীর পাঁচ সদস্যের একটি দল এগিয়ে যায়।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, লাতিন আমেরিকা
  • শেষ আপডেট: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০২:৩৪

ফের উত্তপ্ত লাতিন আমেরিকা। কিউবার জলসীমায় ঢুকে পড়ল আমেরিকায় নথিভুক্ত একটি স্পিডবোট। শুধু তাই নয়, কিউবার বর্ডার গার্ড ট্রুপসকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর অভিযোগও উঠেছে। এর জেরে মাঝ সমুদ্রে তুমুল সংঘর্ষ বাধে। ঘটনায় স্পিডবোটে থাকা চার জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও ৬ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। মঙ্গলবার অর্থাৎ ২৫ ফেব্রুয়ারি সকালে কিউবার উত্তর উপকূলে ভিলা ক্লারা প্রদেশের কাছে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে।

সন্ধ্যায় কিউবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এক বিবৃতিতে জানায়, ফ্লোরিডায় নথিভুক্ত স্পিডবোটটি কিউবার জলসীমার অনেক গভীরে ঢুকে পড়েছিল। সেটিকে চিহ্নিত করতে কিউবার সীমান্তরক্ষী বাহিনীর পাঁচ সদস্যের একটি দল এগিয়ে যায়।

অভিযোগ, আচমকাই স্পিডবোট থেকে এলোপাথাড়ি গুলি চালানো হয় সীমান্তরক্ষীদের লক্ষ্য করে। এতে কিউবার এক কমান্ডার আহত হন।

কিউবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের দাবি, ‘আত্মরক্ষা ও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার স্বার্থে’ তারা পাল্টা গুলি চালাতে বাধ্য হয়। তাতেই স্পিডবোটে থাকা চার জন ‘হামলাকারী’র মৃত্যু হয়েছে। আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে হাভানা।

নিহতদের পরিচয় বা তারা কেন কিউবার জলসীমায় ঢুকেছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে ঘটনাস্থলটি মানবপাচার ও চোরাচালানের রুট হিসেবে পরিচিত বলে জানা গিয়েছে।

এদিকে, আমেরিকা-কিউবা সম্পর্ক বর্তমানে উত্তেজনার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। কিউবায় কমিউনিস্ট শাসন প্রতিষ্ঠার পর থেকে দুই দেশের সম্পর্ক কখনওই স্বাভাবিক ছিল না। সম্প্রতি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো-কে অপহরণ করে আমেরিকায় নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ঘিরে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।

মাদুরো কিউবার ঘনিষ্ঠ মিত্র। কিউবার জ্বালানি চাহিদার বড় অংশই মেটাত ভেনেজুয়েলা। কিন্তু মাদুরোকে ঘিরে বিতর্কের পর ভেনেজুয়েলার তেল রপ্তানি, বিশেষত কিউবায় সরবরাহ, বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ওয়াশিংটন।

এরপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিউবায় তেল সরবরাহকারী দেশগুলির উপর শুল্ক ও বিধিনিষেধ আরোপের হুঁশিয়ারি দেন। এমনকি ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ কিউবায় শাসন পরিবর্তনই তাদের লক্ষ্য বলে ট্রাম্প প্রশাসনের তরফে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

এই আবহেই স্পিডবোট-কাণ্ড নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে-এটি কি বিচ্ছিন্ন ঘটনা, নাকি বৃহত্তর সংঘাতের সূচনা? যদিও এখনও পর্যন্ত মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট বা হোয়াইট হাউস এই ঘটনার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে ফ্লোরিডার রিপ্রেজেন্টেটিভ কার্লোস গিমেনেজ ইতিমধ্যেই ঘটনাটিকে ‘অ্যাসাসিনেশন’ বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হত্যা বলে আখ্যা দিয়েছেন।


Share