Nana Patekar Death

'ক্রান্তিবীর’ থেকে ‘ওয়েলকাম’, চরিত্র বদলালেও দাপট ছিল একই, প্রয়াত কিংবদন্তি অভিনেতা নানা পাটেকর, প্রয়াণকালে বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর

‘ক্রান্তিবীর’, ‘পরিন্দা’, ‘অব তক ছপ্পন’, ‘ওয়েলকাম’-সহ একাধিক ছবিতে অভিনয়ে মুগ্ধ করেছেন নানা পাটেকর। ৭৫ বছর বয়সে তাঁর প্রয়াণে ভারতীয় সিনেমা হারাল এক স্বতন্ত্র ও কিংবদন্তি অভিনেতাকে।

নানা পাটেকর।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৮ অক্টোবর ২০২৬ ১০:২০

'আ গয়ে মেরি মউত কা তামাশা দেখনে...’-‘ক্রান্তিবীর’ ছবির এই সংলাপ শুধু একটি সিনেমার দৃশ্য নয়, নানা পাটেকরের অভিনয়-সাম্রাজ্যের অন্যতম পরিচয় হয়ে উঠেছিল। বৃহস্পতিবার ভোরে ৭৫ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যুসংবাদে ফের আলোচনায় উঠে এসেছে সেই সংলাপ। গোয়ার বাড়িতে ভোর ৫টা ২০ মিনিট নাগাদ মৃত্যু হয় অভিনেতার। জানা যায়, বুকে তীব্র যন্ত্রণা অনুভব করার পর তাঁকে অচৈতন্য অবস্থায় পাওয়া যায়। CPR দেওয়ার চেষ্টা হলেও শেষরক্ষা হয়নি। হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

বিশ্বনাথ পাটেকর নামে জন্ম নেওয়া নানা ১৯৭৮ সালে ‘গমন’ ছবির মাধ্যমে অভিনয়জগতে পা রাখেন। ‘অঙ্কুশ’, ‘পরিন্দা’, ‘ক্রান্তিবীর’, ‘অগ্নিসাক্ষী’, ‘খামোশি’, ‘অব তক ছপ্পন’, ‘নটসম্রাট’-সহ একাধিক ছবিতে তাঁর অভিনয় দর্শকদের মনে স্থায়ী ছাপ ফেলেছে। ১৯৮৯ সালের ‘পরিন্দা’-য় গ্যাংস্টার আন্নার চরিত্রে অভিনয় করে প্রথম জাতীয় পুরস্কার পান তিনি। পরে ‘ক্রান্তিবীর’ এবং ‘অগ্নিসাক্ষী’-র জন্যও জাতীয় পুরস্কার পান।

নানার অভিনয়ের বিশেষত্ব ছিল তাঁর কণ্ঠস্বর, চোখের দৃষ্টি, শরীরী ভাষা এবং সংলাপ বলার নিজস্ব ভঙ্গি। কখনও ভয়ঙ্কর ভিলেন, কখনও কঠিন পুলিশ অফিসার, কখনও জটিল রাজনৈতিক চরিত্র-প্রতিটি ভূমিকাতেই নিজস্ব ছাপ রেখে গিয়েছেন তিনি। ‘অব তক ছপ্পন’-এর সাধু আগাসে থেকে ‘ওয়েলকাম’-এর উদয় শেঠ-বৈচিত্র্যময় চরিত্রে তাঁর সাবলীল অভিনয় প্রমাণ করেছে, চরিত্রাভিনেতাও যে গোটা সিনেমার মূল আকর্ষণ হয়ে উঠতে পারেন।

শুধু অভিনেতা নন, পরিচালক হিসেবেও কাজ করেছেন নানা। ‘প্রহার’ ছিল তাঁর পরিচালিত প্রথম ছবি। ২০১৬ সালের মারাঠি ছবি ‘নটসম্রাট’ তাঁর কেরিয়ারের অন্যতম উল্লেখযোগ্য কাজ। সিনেমার পাশাপাশি সমাজসেবাতেও যুক্ত ছিলেন তিনি। মহারাষ্ট্রের খরাপ্রবণ কৃষকদের সাহায্যের জন্য মকরন্দ আনাসপুরের সঙ্গে ‘নাম ফাউন্ডেশন’ গড়ে তুলেছিলেন।

৭০ পেরিয়েও অভিনয় চালিয়ে গিয়েছেন নানা। ‘বনবাস’, ‘হাউসফুল ৫’, ‘ও রোমিও’ এবং ‘সুবেদার’-এর মতো সাম্প্রতিক কাজ তাঁর দীর্ঘ অভিনয়জীবনের সাক্ষ্য বহন করে। সিনেমায় তাঁর অবদানকে স্বীকৃতি দিয়ে ২০১৩ সালে তাঁকে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করা হয়। পাশাপাশি সম্মানিত লেফটেন্যান্ট কর্নেলের পদও পেয়েছিলেন তিনি। নানা পাটেকরের প্রয়াণে তাই শুধু একজন অভিনেতার মৃত্যু নয়, ভারতীয় সিনেমার এক স্বতন্ত্র অভিনয়-ধারারও অবসান হল।


Share