TMC Political Crisis

ফ্রিজ করা হতে পারে তৃণমূলের প্রতীক! বিধানসভা উপনির্বাচনের আগে বিপাকে দুই শিবির, দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে কমিশনের কাছে আর্জি

সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দল তৈরি করেছিলেন। তিনি নিজে জোড়াফুল এঁকেছিলেন। তা থেকেই দলীয় প্রতীক তৈরি হয়েছে। মমতা তাঁদের সঙ্গে রয়েছেন। সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও তাঁদের সঙ্গে রয়েছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ওই প্রতীকে জিতে তিন বার মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন।

(বাঁ দিকে) বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৬:৫৬

আপাতত ফ্রিজ করা হতে পারে তৃণমূলের প্রতীক। কার দখলে যাবে তৃণমূলের 'জোড়াফুল' প্রতীক— এই নিয়ে শনিবার কালীঘাট এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, দুই গোষ্ঠীকে নিয়ে নির্বাচন কমিশন বৈঠক করেছে। দু’পক্ষের বক্তব্য কমিশন শুনেছে। নির্বাচন কমিশন সূত্রের খবর, আসন্ন দুই বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচনের আগে এই সমস‍্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। তাই তৃণমূলের প্রতীক আপাতত ‘ফ্রিজ’ করা হতে পারে।

এ দিন তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর সঙ্গেই প্রতীকের মালিকানা নিয়ে বৈঠক করেছে নির্বাচন কমিশন। কোন গোষ্ঠীর সমর্থনে কত সাংসদ এবং বিধায়ক রয়েছে তা জানতে চাওয়া হয়েছে। দলের গঠনতন্ত্র নিয়ে খুঁটিনাটি জানতে চেয়েছে নির্বাচন কমিশন। দু’পক্ষই নিজের কথা কমিশনকে জানিয়েছে। তবে দু’পক্ষই এই সমস্যা যাতে দীর্ঘমেয়াদি না হয় তার আবেদন কমিশনকে জানিয়েছে। এই সমস্যা যাতে দ্রুত সমাধান হয় তার অনুরোধ দু’পক্ষই করেছে।

দু’টি বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। রেজিনগর এবং নন্দীগ্রাম কেন্দ্রে মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর। ইতিমধ্যেই জাতীয় কংগ্রেস প্রার্থী ঘোষণা করেছে। প্রার্থী ঘোষণা করেছে হুমায়ুন কবিরের আম জনতা পার্টি। বিজেপি আর কয়েক দিনের মধ্যেই প্রার্থী ঘোষণা করবে। কিন্তু বিপাকে পড়েছে তৃণমূলের দুই শিবিরই।

নির্বাচন কমিশন সূত্রের খবর, উপনির্বাচনের আগে তৃণমূলের প্রতীক নিয়ে চূড়ান্ত নেওয়ার সম্ভাবনা কার্যত কম। সে ক্ষেত্রে কমিশন অন্তর্বর্তী কোনও নির্দেশ দিতে পারে। সেই সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে আপাতত ফ্রিজ করে দেওয়া হতে পারে 'জোড়াফুল' প্রতীক। কমিশন সূত্রে খবর, সে ক্ষেত্রে আসন্ন দুই কেন্দ্রে উপনির্বাচনে লড়তে দু-পক্ষকে অস্থায়ী একটি নাম এবং তার একটি প্রতীক দিতে পারে কমিশন। সেই প্রতীক নিয়েই দু’পক্ষ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবে।

শনিবার প্রথমে তৃণমূলের ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোষ্ঠী এবং তার পর কালীঘাটের গোষ্ঠীর সঙ্গে নির্বাচন কমিশন বৈঠক করে। দু’পক্ষের কাছে কত জন বিধায়ক এবং সাংসদের সমর্থন আছে জানতে চাওয়া হয়। দুই গোষ্ঠীর তরফ থেকেই উত্তর দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “তৃণমূল কারও বাপের সম্পত্তি নয়। নির্বাচন কমিশন যা সিদ্ধান্ত নেবে, সেটাই চূড়ান্ত। কমিশনের সঙ্গে প্রায় এক ঘণ্টা ২০ মিনিটের বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে কী কথা হয়েছে , বাইরে বিস্তারিত বলা যায় না। তবে এ কথা স্পষ্ট করে দিয়েছি— না খাতা, না বহি, মমতা ব্যানার্জি হি সহি— এ ভাবে আমরা চলি না।”

অন্য দিকে, তৃণমূলের কালীঘাট গোষ্ঠীর তরফে সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দল তৈরি করেছিলেন। তিনি নিজে জোড়াফুল এঁকেছিলেন। তা থেকেই দলীয় প্রতীক তৈরি হয়েছে। মমতা তাঁদের সঙ্গে রয়েছেন। সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও তাঁদের সঙ্গে রয়েছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ওই প্রতীকে জিতে তিন বার মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন। যাঁরা এখন বিদ্রোহ করেছেন, কয়েক মাস আগে মমতার আঁকা ওই প্রতীকেই নির্বাচনেই জয়ী হন তাঁরা। তাই তাঁদের যেন গুরুত্ব দেওয়া না হয় সেই দাবি করেছেন।

কল‍্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “নির্বাচন কমিশন এই বিষয়ে অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিতে পারে। সেটা দেখে যা বলার, যা করার করব। তিনি জানিয়েছেন, কমিশন যতক্ষণ পর্যন্ত না বলছে, তাঁরা জোড়াফুল চিহ্নেই ভোটে লড়াই করবে। নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগরে তাঁরা ভোটে লড়বেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করবেন।” তবে কমিশনের ওপরে ভরসা করছেন না বলেও দাবি করেন সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।

রাজ‍্যের বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “তৃণমূল কারও বাপের সম্পত্তি নয়। নির্বাচন কমিশন যা সিদ্ধান্ত নেবে, সেটাই চূড়ান্ত। কমিশনের সঙ্গে প্রায় এক ঘণ্টা ২০ মিনিটের বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে কী কথা হয়েছে , বাইরে বিস্তারিত বলা যায় না। তবে এ কথা স্পষ্ট করে দিয়েছি— না খাতা, না বহি, মমতা ব্যানার্জি হি সহি— এ ভাবে আমরা চলি না।”

উল্লেখ্য, এর আগে মহারাষ্ট্রে শিবসেনায় ভাঙন হয়েছিল। সে ক্ষেত্রে সংখ্যাগরিষ্ঠতাকেই সিলমোহর দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। সেই সময় একনাথ শিন্ডের কাছে বেশি সংখ্যক বিধায়ক এবং সাংসদের সমর্থন ছিল। উদ্ধব ঠাকরে দলীয় সংবিধান মানছিলেন না বলে সেই সময় যুক্তি দেন একনাথ শিন্ডে। এ দিন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়েপ তৃণমূলের গোষ্ঠীর তরফেও তেমনই যুক্তি দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর। শেষ পর্যন্ত কোন গোষ্ঠীর হাতে তৃণমূলের ‘জোড়াফুল’ প্রতীক যায় সেই দিকেই রাজনৈতিক মহলের নজর রয়েছে।


Share