Arabul Islam Leave TMC

মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগরে দিয়ে তৃণমূল ছাড়লেন আরাবুল, নির্বাচনের আগে নওশাদের হাত ধরতে পারেন, বলেছে ঘনিষ্ঠেরা

আরাবুল ইসলাম বলেন, “আমি আজ থেকে দল করছি না। একাধিক বিধানসভা এবং লোকসভা নির্বাচন করিয়েছি। জানি কী করতে হয়। তাই আগামী দিনে নিজের মতো চলব। কী করব তা আগামী দিনে জানিয়ে দেব।”

তৃণমূল ছাড়ার কথা ঘোষণা করলেন আরাবুল ইসলাম।
নিজস্ব সংবাদদাতা, হুগলি
  • শেষ আপডেট: ১৭ মার্চ ২০২৬ ১২:৪৭

তৃণমূল নেত্রী তথা রাজ‍্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগরে দিয়ে দলত‍্যাগের ঘোষণা করলেন ভাঙড়ের তৃণমূল নেতা আরাবুল ইসলাম। হুগলির ফুরফুরা শরিফে গিয়ে তিনি বলেন, তিনি তৃণমূলের জন্য প্রাণপাত করেছেন। সেই দলই তাঁকে পদে পদে অপমান করেছে। তাই তিনি আর তৃণমূলে সঙ্গে আর কোনও যোগাযোগ রাখবেন না। তৃণমূলের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করার কথা ঘোষণা করেছেন।

২০০৬ সালে বিধানসভায় তৃণমূলের ৩০ জন বিধায়ক ছিলেন। তাঁদের মধ্যে একজন আরাবুল ইসলাম। তিনি দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার ভাঙড় আসন থেকে সিপিএম প্রার্থী মোশাররফ হোসেন লস্করকে হারিয়ে বিধায়ক হয়েছিলেন। কিন্তু ২০১১ সালে তৃণমূলের গোঁজ প্রার্থী নান্নু হোসেন বিদ্রোহী হয়ে দাঁড়িয়ে পড়ায় পরিবর্তনের হাওয়াতেও সিপিএমের বাদল জমাদারের কাছে পরাজিত হন আরাবুল। তার পর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তৃণমূলে আরাবুলের গুরুত্ব কমেছে। দল তাঁকে বহিষ্কারও করেছিল। তবে আরাবুলের দাবি, তিনি এখনও ভাঙড়ের রাস্তা ধরে হেঁটে গেলে হাজার হাজার মানুষ তাঁর কাছে ছুটে যান। আরাবুলের দাবি, তিনি ভাঙড়ের মানুষের জন্য করেন। ভাঙড়ের মানুষ সর্বদা তাঁর পাশে রয়েছে।

সোমবার আরাবুল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপরে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “আমার ওপরে অনেক বার হামলা হয়েছে, তা সবাই জানে। তৃণমূল কংগ্রেস গঠনের আগে থেকে আমি তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে ছিলাম। ১৯৮৪ সাল থেকে আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ছিলাম। ভুল, ত্রুটি, ক্ষমা যাই হোক হয়েছে। বেশি কথা বলব না। আমি অন্তর থেকে তৃণমূল কংগ্রেসকে ছেড়ে দিতে চাই। যারা ভাঙড়ের মানুষকে খুন করেছে, রক্ত ঝরিয়েছে, তাদের নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজনীতি করছে।” এর পরেই তিনি তৃণমূল ছাড়ার ঘোষণা করে বলেন, “মন থেকে তৃণমূল কংগ্রেসটাকে ছেড়ে দিচ্ছি। এই দলের কোনও নেতার সঙ্গে আমার সম্পর্ক থাকবে না। আমি কারোর সঙ্গে সম্পর্ক রাখব না।”

কিন্তু দল তো তাঁকে আগেই বহিষ্কার করেছে? আরাবুলের জবাব, ‘‘বহিষ্কার তো আগেও করেছে। পাঁচ বার জেলও খাটিয়েছে। শুধু বহিষ্কার করত। জেল খাটানোর দরকার ছিল না!’’ তিনি জানান, জেলমুক্তির পরে তৃণমূল নেতৃত্বের নির্দেশমাফিক কাজ করেছেন। কিন্তু তার পরেও দল তাঁকে গুরুত্ব দেয়নি। আরাবুলের কথায়, ‘‘বার বার অপমান করেছে। আমি সেই অপমান মাথায় বসে থাকব না আর। তৃণমূলের কোনও নেতার সঙ্গে আর সম্পর্ক থাকবে না আমার।’’ আরাবুলের এ-ও দাবি, তাঁকে বহিষ্কারের জন্য তৃণমূলের এক নেতা নাকি কোটি টাকা খরচ করেছেন!

পদত্যাগপত্র পাঠানোর প্রসঙ্গে আরাবুল ইসলাম বলেন, “আমি আজ থেকে দল করছি না। একাধিক বিধানসভা এবং লোকসভা নির্বাচন করিয়েছি। জানি কী করতে হয়। তাই আগামী দিনে নিজের মতো চলব। কী করব তা আগামী দিনে জানিয়ে দেব।” আরাবুল ঘনিষ্ঠেদের সূত্রের খবর তিনি নওশাদ সিদ্দিকির দল আইএসএফে যোগ দিতে পারেন। দক্ষিণ ২৪ পরগনার কোনও আসন থেকে ভোটে লড়তে পারেন।


Share