Election Commission

ভোটের নির্ঘণ্টের সঙ্গে চালু আদর্শ আচরণবিধি, সরকারি গাড়ি-ভবন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা নির্বাচন কমিশনের

কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, কোনও রাজনৈতিক দল সরকারি ভবন, সরকারি গাড়ি বা সরকারি পরিকাঠামো নির্বাচনী প্রচারের কাজে ব্যবহার করতে পারবে না। সরকারি অর্থে বিজ্ঞাপন প্রচারও সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। একই সঙ্গে মন্ত্রীদের সরকারি দায়িত্ব ও নির্বাচনী প্রচারকে আলাদা রাখার উপরও জোর দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৭ মার্চ ২০২৬ ১১:২৯

বিধানসভা নির্বাচনের সূচি ঘোষণার পর রবিবার বিকেল থেকেই পশ্চিমবঙ্গ-সহ বাকি চার রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে আদর্শ আচরণবিধি (এমসিসি) কার্যকর হয়েছে। এর সঙ্গে নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক দল, প্রার্থী, মন্ত্রী এবং বিভিন্ন স্তরের সরকারি কর্মচারীদের জন্য বিস্তারিত নির্দেশিকাও জারি করেছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এ বারের নির্দেশিকায় সরকারি সম্পদের ব্যবহারে কড়াকড়ির বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে।

কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, কোনও রাজনৈতিক দল সরকারি ভবন, সরকারি গাড়ি বা সরকারি পরিকাঠামো নির্বাচনী প্রচারের কাজে ব্যবহার করতে পারবে না। সরকারি অর্থে বিজ্ঞাপন প্রচারও সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। একই সঙ্গে মন্ত্রীদের সরকারি দায়িত্ব ও নির্বাচনী প্রচারকে আলাদা রাখার উপরও জোর দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনী প্রচারে সরকারি গাড়ি, সরকারি নিরাপত্তা বা অন্য কোনও সরকারি সুবিধা ব্যবহার করা যাবে না বলে স্পষ্ট জানানো হয়েছে। যদিও প্রতি নির্বাচনের সময়ই এ ধরনের নির্দেশিকা জারি হয়, কিন্তু তা লঙ্ঘনের অভিযোগও প্রায়শই ওঠে। তাই এ বার কমিশন আরও স্পষ্টভাবে নিয়মগুলি সামনে এনে রাজনৈতিক দলগুলিকে সতর্ক করেছে। পাশাপাশি, সাধারণ মানুষও যাতে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ জানাতে পারেন, সেই ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

এমসিসি ভঙ্গের অভিযোগ জানাতে ‘সি–ভিজিল’ অ্যাপ এবং নির্বাচন কমিশনের ১৯৫০ নম্বর কলসেন্টার ব্যবহার করা যাবে। দিন-রাত যে কোনও সময় অভিযোগ নথিভুক্ত করা যাবে। অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য নির্বাচন কমিশন ভোটমুখী রাজ্যগুলিতে পাঁচ হাজার ১৭৩টি ফ্লাইং স্কোয়াড এবং পাঁচ হাজার ২০০টি স্ট্যাটিক সার্ভেল্যান্স টিম (এসএসটি) মোতায়েন করেছে। নির্দেশ অনুযায়ী, অভিযোগ পাওয়ার ১০০ মিনিটের মধ্যে তা তদন্ত করে দেখা বাধ্যতামূলক। রাজনৈতিক দলগুলিকে সভা বা মিছিলের আগে সংশ্লিষ্ট পুলিশ প্রশাসনকে জানাতে হবে, যাতে নিরাপত্তা ও যানবাহন নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করা যায়। লাউডস্পিকার ব্যবহারের ক্ষেত্রেও আগে থেকে অনুমতি নিতে হবে। মাঠ, হেলিপ্যাড বা অন্য কোনও সরকারি জায়গা ব্যবহারের জন্য কমিশনের 'ইসিআইনেট' প্ল্যাটফর্মে থাকা ‘সুবিধা’ পোর্টালে আবেদন করতে হবে। আবেদনগুলি ‘ফার্স্ট কাম, ফার্স্ট সার্ভ’ ভিত্তিতে বিবেচনা করবে প্রশাসন।

পুলিশ ও প্রশাসনের উদ্দেশে কমিশনের স্পষ্ট বার্তা, সব রাজনৈতিক দলের ক্ষেত্রে সমান ও নিরপেক্ষ মনোভাব বজায় রেখে আচরণবিধি কার্যকর করতে হবে। কোনও পক্ষপাতিত্ব প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের বিরুদ্ধে কমিশন ব্যবস্থা নেবে।


Share