By-Election

‘জন্মের আগেই মাধ‍্যমিক পাশ’, নন্দীগ্রামের বিজেপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া কংগ্রেসের মামলা খারিজ করে দিল কলকাতা হাই কোর্ট

অথচ, প্রার্থী জানিয়েছেন, তাঁর বয়স বর্তমানে ৬০ বছরের বেশি। সেই অনুযায়ী, ১৯৬৬ সালে তাঁর জন্ম হওয়ার কথা। কীভাবে জন্মের আগেই মাধ‍্যমিক পাশ করলেন তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল কংগ্রেস।

কলকাতা হাই কোর্ট।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০১:০৭

নন্দীগ্রামের বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথের নির্বাচনী হলফনামা নিয়ে প্রশ্ন তুলে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল কংগ্রেস। মামলার শুনানির শেষে রায়দান স্থগিত রেখেছিল বিচারপতি। মঙ্গলবার সেই মামলা খারিজ করে দিয়েছেন বিচারপতি কৃষ্ণা রাও।

কংগ্রেসের অভিযোগ ছিল, হাসিরানি নির্বাচনী হলফনামায় যে শিক্ষাগত যোগ্যতার উল্লেখ করেছেন তাতে বিস্তর ভুল রয়েছে। নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী হাসিরানি ১৯৬৫ সালে মাধ্যমিক পরীক্ষা পাস করেছেন। অথচ, প্রার্থী জানিয়েছেন, তাঁর বয়স বর্তমানে ৬০ বছরের বেশি। সেই অনুযায়ী, ১৯৬৬ সালে তাঁর জন্ম হওয়ার কথা। কীভাবে জন্মের আগেই মাধ‍্যমিক পাশ করলেন তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল কংগ্রেস।

মামলাকারীর বক্তব্য ছিল, চৌখালি গঙ্গাখালি বালিকা বিদ‍্যালয় থেকে তিনি মাধ‍্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। হয় নিজের বয়স নিয়ে হাসিরানি অসত্য কথা বলেছেন না হয় মাধ‍্যমিকের শংসাপত্রটি জাল। দু’টি একসাথে সঠিক হতে পারে না। তাঁর মনোনয়ন বাতিলের দাবি জানানো হয়।

প্রার্থীর হলফনামা খতিয়ে দেখার দায়িত্ব রিটার্নিং অফিসারের। কমিশনের বক্তব্য, মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময়সীমা শেষ। স্ক্রটিনির সময় সেই আপত্তি তোলা যেত। কিন্তু সেই সময় কেউ আপত্তি তোলেনি। জনস্বার্থ মামলাও করা যেত। যে হেতু প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে, তাই আর এই বিষয়ে পদক্ষেপ করা যায় না। প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতার শংসাপত্র জাল কি না তা প্রার্থীপদ খারিজের জোরালো কারণ হতে পারে না বলেও কমিশন আদালতকে জানিয়েছে।

হাসিরানির আইনজীবী শুক্রবারের শুনানিতে আদালতে জানান, যে সময় হলফনামার তথ্যের ভিত্তিতে আপত্তি জানানোর কথা ছিল, সেই সময় তা করা হয়নি। এখন আদালত প্রার্থীর বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করতে পারে না। তা ছাড়া, এটি ইচ্ছাকৃত কোনও ভুল নয়। তাই হাসিরানিকে সুযোগ দেওয়া উচিত বলে মনে করেন আইনজীবী।

শুক্রবার বিচারপতি রাও সব পক্ষের বক্তব্যই শোনেন। শুনানি শেষে রায় স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত জানান তিনি। মঙ্গলবার কংগ্রেসের করা মামলাটি খারিজ করে দেওয়ার কথা জানান বিচারপতি।


Share