BJP Announce Candidate

ভবানীপুর থেকে ভোটে লড়বেন শুভেন্দু অধিকারী, নন্দীগ্রামেও তিনিই প্রার্থী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে খোলাখুলি ‘চ‍্যালেঞ্জ’

শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, “আপনাকে নন্দীগ্রামে আপনাকে হারিয়েছি। এ বার ভবানীপুরেরও আপনাকে হারাব।”শুভেন্দু আরও বলেছিলেন, “নন্দীগ্রামে হেরে আপনি পালিয়ে গিয়েছিলেন। তার পর থেকে আর নন্দীগ্রামের দিকে মুখ ফেরাননি। এ বারও আপনি পালিয়ে যাবেন না।”

(বাঁ দিক থেকে) বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৬ মার্চ ২০২৬ ০৬:১৮

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্র ভবানীপুর থেকে ভোটে লড়বেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণার পরেই দিনই তালিকা প্রকাশ করল বিজেপি। ভবানীপুরের সঙ্গে নন্দীগ্রাম থেকেও তিনি বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন। তৃণমূলের তালিকা বের হয়নি। তার আগেই মুখ্যমন্ত্রী মমতাকে চ‍্যালেঞ্জ দিয়ে দিল বিজেপি।

সোমবার বিকেলে ১৪৪ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে বিজেপি। তাতে দেখা যাচ্ছে ১৫৯ নম্বর ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্র এবং ২১০ নম্বর নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্র থেকে বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন বর্তমানের রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।

তৃণমূলের গড় ভবানীপুর। তার ওপর ভবানীপুর মুখ‍্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্র। ওই বিধানসভা কেন্দ্র কলকাতা পুরসভার ৬৩, ৭০, ৭১, ৭২, ৭৩, ৭৪, ৭৭ এবং ৮২ ওয়ার্ড রয়েছে। গত লোকসভা নির্বাচনে ৮টি ওয়ার্ডের মধ্যে পাঁচটি ওয়ার্ডেই এগিয়ে রয়েছে বিজেপি। বেশ কিছু দিন আগে ৭৩ নম্বর ওয়ার্ডের চক্রবেড়িয়ায় বিজেপি ‘ওয়ার রুম’ চালু করেছে। তা উদ্বোধন করেছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। শুভেন্দু অধিকারী যে ভবানীপুরে বিজেপির টিকিটে লড়বেন তার দেওয়াল লিখন অনেকটাই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল।

অন‍্যদিকে রাজ্যে ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর)-এর পরে ভবানীপুরে ৪৭ হাজারের নাম বাদ পড়েছে। ১৪ হাজার ভোটার এখনও বিচারাধীন। তাদের মধ্যে ৭৭ নম্বর ওয়ার্ডের সবচেয়ে বেশি। ৭৭ নম্বর ওয়ার্ডে সংখ‍্যালঘু ভোটারের সংখ্যা বেশি রয়েছে। এই কেন্দ্রের যেমন বাঙালি ভোটার রয়েছে তেমনই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অবাঙালি ভোটার রয়েছে। অপর দিকে প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়াকে হাতিয়ার করে লড়াইয়ের ময়দানে নামতে চলেছে বিজেপি।

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম থেকে লড়াই করেছিলেন রাজ‍্যের মুখ‍্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু এক হাজার ৯৫৬ ভোটে পরাজিত হন। তিনি পরাজিত হলেও তৃণমূল কংগ্রেস ২১৫টি আসনে জয়লাভ করে। তার পরেই ভবানীপুরে উপনির্বাচনে প্রার্থী হন মমতা। সেখান থেকে জিতে বিধায়ক হন। গত ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনেও ভবানীপুরের বেশ কয়েকটি ওয়ার্ড থেকে এগিয়ে ছিলেন বিজেপি প্রার্থী তথাগত রায়।

এর আগেও একাধিক শুভেন্দু অধিকারীর গলায় শোনা গিয়েছিল ভবানীপুরের নাম। নন্দীগ্রামের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারানোর পরে ভবানীপুরে দাঁড়িয়ে তাঁকে হারানোর চ‍্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, “আপনাকে নন্দীগ্রামে আপনাকে হারিয়েছি। এ বার ভবানীপুরেরও আপনাকে হারাব।”শুভেন্দু আরও বলেছিলেন, “নন্দীগ্রামে হেরে আপনি পালিয়ে গিয়েছিলেন। তার পর থেকে আর নন্দীগ্রামের দিকে মুখ ফেরাননি। এ বারও আপনি পালিয়ে যাবেন না।”


Share