Assembly Election

‘কেন্দ্র বা রাজ‍্য, তাঁরা সবাই সরকারি কর্মী,’ নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করল না সুপ্রিম কোর্ট, ভোট গণনা মামলার হাই কোর্টের পরে সুপ্রিম কোর্টেও ধাক্কা তৃণমূলের

শুনানি শেষে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দেয়, আলাদা করে এই মামলায় নতুন কোনও নির্দেশ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। ১৩ এপ্রিল নির্বাচন কমিশন যে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে, তা মেনেই গোটা গণনা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

প্রতীকী চিত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ০২ মে ২০২৬ ১২:৫২

কলকাতা হাই কোর্টের পরে সুপ্রিম কোর্টেও ধাক্কা খেল তৃণমূল। ভোট গণনায় কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের নিয়োগের কমিশনের সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করল সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালতের নির্দেশ, কমিশনের নির্দেশ মেনেই ভোট গণনা হবে।

ভোট গণনায় শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের নিয়োগ কেন করা হচ্ছে, সেই প্রশ্ন তুলে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল তৃণমূল। শনিবার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি পি এস নরসিংহ এবং বিচারপতি জয়মাল‍্য বাগচীর বেঞ্চে এই মামলাটির শুনানি হয়। 

এ দিন তৃণমূল সুপ্রিম কোর্টে চারটি দাবি পেশ করে। তাঁদের বক্তব্য, গত ১৩ এপ্রিল কমিশন গণনা সুপারভাইজার নিয়োগ সংক্রান্ত নির্দেশিকা জেলা নির্বাচন আধিকারিকের উদ্দেশ্যে জারি করেছ। তাঁরা গত ২৯ এপ্রিল বিষয়টি জানতে পারে। সেখানে সাধারণত আগাম নোটিশ দেওয়া হয়। বলা হয়, প্রতিটি বুথে সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আগে একজন কেন্দ্রীয় সরকারের মনোনীত প্রতিনিধি ছিল। এখন তারা আরও একজন করে চাইছে। তৃণমূল এ-ও জানায়, নির্দেশিকায় বলা হয়েছে রাজ্য সরকারের মনোনীত প্রতিনিধি থাকা উচিত। অথচ তা নিয়োগ করা হচ্ছে না। তৃণমূল অভিযোগ, কমিশন সংবিধানের ৩২৪ অনুচ্ছেদ মানে বলে এই নয় যে, তারা যা খুশি, যেমন খুশি করা যাবে। কমিশনের এই কর্মকাণ্ড রাজ‍্য সরকারের বিরুদ্ধে আঙুল তোলা হচ্ছে বলেও তৃণমূল আদালতের কাছে অভিযোগ করেছে।  

শুনানিতে দেশের সর্বোচ্চ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, গণনা সুপারভাইজার ও গণনা অ্যাসিস্ট্যান্টরা নির্বাচন কমিশনের অধীনেই কাজ করবেন। তাঁরা কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী নাকি রাজ্য সরকারি কর্মী, তা নিয়ে আলাদা করে বিভাজনের কোনও অর্থ নেই। বিচারপতি জয়মাল‍্য বাগচী বলেন, “গণনার সময় সব দলের এজেন্টরা উপস্থিত থাকবেন। তিনি (গণনা সুপারভাইজার) কেন্দ্রীয় সরকারের মনোনীত কিনা, তা খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়।” 

বিচারপতি বাগচীর পর্যবেক্ষণে আরও স্পষ্ট করে বলেন, “কমিশন এই নির্দেশ নিজের সন্তুষ্টির জন্য জারি করেছে। এ ছাড়াও, গণনা অ্যাসিস্ট্যান্ট, গণনা সুপারভাইজার এবং একজন মাইক্রো অবজার্ভার থাকবেন। যিনি কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মী। শুধুমাত্র একজন কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মী থাকার কারণে আমরা বলতে পারি না যে এই বিজ্ঞপ্তি নিয়ম বহির্ভূত। অন্যদের ক্ষেত্রে কোথাও বলা নেই যে তারা কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মচারী হতে পারবেন না।” সম্পূর্ণ ভাবে একতরফা ভাবে দেখে নির্বাচন করাকে ভুল বলা যায় না। কমিশনের এক্তিয়ার আছে তারা রাজ‍্য বা কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মীদের বেছে নেওয়ার। এতে কোনও অসুবিধা নেই বলেও মন্তব্য করেন শীর্ষ আদালতের বিচারপতি জয়মাল‍্য বাগচী।

বিচারপতি পি এস নরসিংহও পর্যবেক্ষণে বলেন, “রাজ্য হোক বা কেন্দ্র, এঁরা সবাই সরকারি কর্মী। এই বিভাজন আসছে কোথা থেকে?” এ দিন নির্বাচন কমিশন শীর্ষ আদালতে জানায়, সমস্ত গণনা কেন্দ্রে রিটার্নিং অফিসারেরা রাজ্যের কর্মীই। তাঁরা সেখানে থাকবেন।

শুনানি শেষে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দেয়, আলাদা করে এই মামলায় নতুন কোনও নির্দেশ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। ১৩ এপ্রিল নির্বাচন কমিশন যে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে, তা মেনেই গোটা গণনা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।  কলকাতা হাই কোর্টও এই মামলায় কমিশনের নির্দেশে হস্তক্ষেপ করেনি। সেখানেও ধাক্কা খেয়েছিল তৃণমূল। এই মামলাতে সুপ্রিম কোর্টেও ধাক্কা খেল তৃণমূল।


Share