Assembly Election

দমদম-ব্যারাকপুরে বিশেষ পর্যবেক্ষক রাজীব কুমার, গণনা নিয়ে তুঙ্গে তৃণমূলের প্রস্তুতি

দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই বৈঠকে অভিষেক বিশেষভাবে রাজীব কুমারের দায়িত্বের কথা উল্লেখ করেন।

পর্যবেক্ষক হিসেবে নিযুক্ত রাজীব কুমার
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০২ মে ২০২৬ ১০:৪৬

ভোট গণনা নিয়ে প্রস্তুতি সারল তৃণমূল কংগ্রেস। সেই প্রস্তুতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে প্রাক্তন রাজ্য পুলিশের ডিজি ও বর্তমান রাজ্যসভার তৃণমূল সাংসদ রাজীব কুমারকে বড় দায়িত্ব দিল দল। আগামী সোমবার গণনার দিনে তাঁকে দমদম-ব্যারাকপুর সাংগঠনিক জেলার গণনা পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে।

শনিবার কাউন্টিং এজেন্টদের নিয়ে এক বিশেষ বৈঠক করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানেই বিভিন্ন সাংগঠনিক জেলায় পর্যবেক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত জানানো হয়। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই বৈঠকে অভিষেক বিশেষভাবে রাজীব কুমারের দায়িত্বের কথা উল্লেখ করেন।

শুধু রাজীবই নন, আরও একাধিক নেতা ও সাংসদকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ঘাটাল সাংগঠনিক জেলার দায়িত্ব পেয়েছেন দীপক অধিকারী (দেব), আর মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলার গণনা পর্যবেক্ষক হিসেবে থাকবেন জুন মালিয়া।

এর আগেও লোকসভা নির্বাচনে নির্দিষ্ট আসনে বিশেষ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করেছিল তৃণমূল। তমলুকে ছিলেন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়, আরামবাগে দায়িত্বে ছিলেন শান্তনু সেন এবং বাঁকুড়ায় ছিলেন সমীর চক্রবর্তী। এ বারও একই কৌশল বজায় রাখা হয়েছে বলে মনে করছে দলীয় শিবির।

শনিবারের বৈঠকে গণনার দিনের কৌশল নিয়েও বিস্তারিত নির্দেশ দেওয়া হয় দলীয় এজেন্টদের। সূত্রের দাবি, মমতা ও অভিষেক স্পষ্ট করে জানান, বুথফেরত সমীক্ষা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনও কারণ নেই। তাঁদের অভিযোগ, শেয়ার বাজারে ইতিবাচক বার্তা দিতেই এসব সমীক্ষায় বিজেপিকে বাড়তি সুবিধা দেখানো হচ্ছে। ২০২১ সালের বিধানসভা এবং ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটের সময়ও একই অভিযোগ তুলেছিল তৃণমূল।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি রাজ্য পুলিশের ভারপ্রাপ্ত ডিজির পদ থেকে অবসর নেন রাজীব কুমার। পরে ২৭ ফেব্রুয়ারি তাঁকে রাজ্যসভার প্রার্থী ঘোষণা করে তৃণমূল এবং ৭ মার্চ তিনি সাংসদ হিসেবে শপথ নেন। এবার প্রথমবারের মতো সাংগঠনিক দায়িত্ব পেলেন তিনি।

দলীয় সূত্রের মতে, রাজীব কুমারের পুলিশের প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা গণনার দিনে কার্যকর ভূমিকা নেবে। অন‍্য দিকে রাজীব কুমারের বিরুদ্ধে অভিযোগও কম নেই বিজেপির। পুলিশ বাহিনীকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার, সারদা মামলা, আইপ‍্যাকের অফিসে ইডির তল্লাশির সময় মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে থাকারও অভিযোগ রয়েছে। জেলায় জেলায় পর্যবেক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে পুরো গণনা প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী ও নজরদারির আওতায় রাখতে চাইছে তৃণমূল নেতৃত্ব।


Share