Election Commission

দ্বিতীয় দফার ভোটে কড়া নজর কমিশনের! ময়দানে মনোজ এবং সুব্রত, যাবেন সন্দেশখালি-সহ একাধিক স্পর্শকাতর এলাকায়

দ্বিতীয় দফার ভোটকে সামনে রেখে কমিশন জোরদার প্রস্তুতিতে নেমেছে। এই প্রেক্ষাপটে ফের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল।

নির্বাচন কমিশন
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৫ এপ্রিল ২০২৬ ০৩:৩০

রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফা শেষ হতেই আরও সক্রিয় নির্বাচন কমিশন। দ্বিতীয় দফার ভোটকে সামনে রেখে কমিশন জোরদার প্রস্তুতিতে নেমেছে। একাধিক স্পর্শকাতর এলাকায় যাবেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকুমার আগরওয়াল। কমিশনের লক্ষ্য স্পষ্ট প্রথম দফার থেকেও আরও শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন ভোট করানো।

জেলা পরিদর্শনে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারীক একা নন। তাঁর সঙ্গে বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত এবং বিশেষ পুলিশ পর্যবেক্ষক এন কে মিশ্র রয়েছেন। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, দ্বিতীয় দফার আগে আরামবাগ, ব্যারাকপুর, বনগাঁর পাশাপাশি বিশেষ নজরে রাখা হয়েছে সংবেদনশীল সন্দেশখালি এলাকাকে। সাম্প্রতিক ঘটনাবলির জেরে সেখানে যে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, তা কাটিয়ে ভোটারদের আস্থা ফেরানোই এখন কমিশনের প্রধান লক্ষ্য। সেই কারণেই উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা সরাসরি এলাকায় গিয়ে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছেন। রবিবারও পূর্ব বর্ধমানের কালনা ও কাটোয়া, এবং দক্ষিণ ২৪ পরগণার কাকদ্বীপে সফরে যাওয়ার কথা রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারীকের।

তবে এই সক্রিয়তা নিয়েই রাজ্যের তৃণমূল সরব হয়েছে। তাদের অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে গত ৫ এপ্রিলের নন্দীগ্রাম সফর। তৃণমূলের দাবি, ওই সফরে নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে মনোজকুমার আগরওয়াল ব্যর্থ হয়েছেন। অভিযোগ, তাঁর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে দেখা গিয়েছিল এক বিজেপি নেতাকে, এমনকি সেই নেতার উপস্থিতিতেই সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। এই দাবির সমর্থনে তৃণমূল একটি ছবিও সামনে এনেছে।

শাসক দলের বক্তব্য, একজন উচ্চপদস্থ নির্বাচন আধিকারিকের এমন আচরণ নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। ইতিমধ্যেই এই ইস্যুতে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তৃণমূলের দাবি, এ ঘটনায় কড়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

যদিও এই বিতর্কের মধ্যেও কমিশন তাদের প্রস্তুতিতে কোনও ভাটা পড়তে দেয়নি। কমিশনের দাবি, জেলা সফরগুলি সম্পূর্ণ প্রশাসনিক এবং ভোট প্রস্তুতির অংশ। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতেই সব পক্ষের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে। বিশেষ করে সন্দেশখালি বা আরামবাগের মতো সংবেদনশীল এলাকায় যাতে ভোটাররা নির্ভয়ে ভোট দিতে পারেন, সেটাই এখন মূল লক্ষ্য।

দ্বিতীয় দফার ভোট যত এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ। এই পরিস্থিতিতে কমিশনের এই বিশেষ উদ্যোগ কতটা সফল হয়, সেটাই এখন দেখার।


Share