Assembly Election

ভুয়ো ‘প্রেস কার্ড’ তৈরি করিয়ে দিচ্ছে আইপ‍্যাক, নির্বাচন প্রক্রিয়া প্রভাবিত হতে পারে! কমিশনের কাছে অভিযোগ রাজ‍্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দুর

আগামী ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হবে। আগামী ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হবে। ৪মে গণনা হবে। তার আগে এমন অভিযোগ ঘিরে আবার রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে।

সমাজমাধ্যমে বিস্ফোরক অভিযোগ রাজ‍্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৭ এপ্রিল ২০২৬ ০১:৫৩

সাংবাদিক সেজে স্পর্শকাতর এলাকায় ঢুকে ভোটারদের প্রভাবিত করা হচ্ছে। এতে নির্বাচন প্রক্রিয়া প্রভাবিত হতে পারে। শুক্রবার এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি নির্বাচন কমিশনকে উধৃত করে সমাজমাধ্যমে অভিযোগ করেছেন।

নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুরের বিজেপি প্রার্থী তথা রাজ‍্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বিশ্বাসযোগ্য সূত্রে তিনি জানতে পেরেছেন,  তৃণমূলের ভোটকুশলী সংস্থা আইপ‍্যাক তৃণমূল কর্মীদের সাংবাদিকদের পরিচয়পত্র তৈরি করে দিচ্ছে। তাঁর দাবি যাঁরা এই পরিচয়পত্রগুলি পাচ্ছেন, তাঁরা আদতে পেশায় সাংবাদিক নন। ওই প্রেস পরিচয়পত্রগুলি সম্পূর্ণ ভুয়ো। শুভেন্দুর অভিযোগ, ওই পরিচয়পত্র নিয়ে তথাকথিত সাংবাদিকেরা সংবেদনশীল এলাকায় যাচ্ছেন। ভোটগ্রহণ কেন্দ্র ও প্রশাসনিক ভবনের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় অবাধ প্রবেশাধিকারের ছাড়পত্র পেয়ে গিয়েছেন।

রাজ‍্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর কথায়, এই তথাকথিত “ছদ্ম-সাংবাদিকদের” কৌশলগত ভাবে আইপ‍্যাক মোতায়েন করা হচ্ছে। তাঁর আশঙ্কা, তাঁরা সাংবাদিক পরিচয়ের আড়ালে স্থানীয় স্তরে বেআইনি কার্যকলাপ চালাতে পারে। এই গুরুত্বপূর্ণ পরিচয়পত্র ব্যবহার করে তাঁরা ভোটারদের প্রভাবিত করতে পারে। ভোটারদের ভয় দেখানো এবং নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার সুযোগ পেয়ে গিয়েছে। তিনি বলেন, এই পরিচয়পত্র ব‍্যবহার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়াতে পারে।

গত কয়েক দিন আগে তৃণমূলের ভোটকুশলী সংস্থা আইপ‍্যাক-এর অন‍্যতম ডিরেক্টর বিনেশ চান্দেলকে গ্রেফতার করেছে ইডি। অভিযোগ, আইপ‍্যাক কয়লাচুরির কালো টাকা সাদা করেছে। টাকা হাওয়ালার মাধ‍্যমে পাচার করেছে। সেই মামলাতেই পরে প্রতীক জৈনের স্ত্রী বারবি জৈন এবং ভাই পুলকিত জৈনকে ইডি গত ১৫ মার্চ দিল্লিতে তলব করেছিল। যদিও তাঁরা হাজিরা দেননি। 

এ দিন শুভেন্দু অধিকারীর তৃণমূলের ভোটকুশলী সংস্থা আইপ‍্যাককে তথাকথিত ‘পলিটিক্যাল কনসালটেন্সি’ বা ‘মানি লন্ডারিং’ সংস্থা বলে কটাক্ষ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, এই সংস্থা গণতান্ত্রিক  প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। পাশাপাশি নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতাকেও ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করছে আইপ‍্যাক।

শুভেন্দুর বক্তব্য, প্রেস কার্ডের সুবিধা সাধারণ মানুষেরা পায় না। যা ব‍্যবহার করার অধিকার দলীয় কর্মীদেরও নেই। তাই বিশেষ সুবিধার অপব্যবহার করে ভোট প্রক্রিয়া প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দাবি করেছেন, গত কয়েক মাসে পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে ইস্যু হওয়া সমস্ত নতুন সাংবাদিকদের পরিচয়পত্র এবং রাজ‍্য সরকার অনুমোদিত ‘অ্যাক্রেডিটেশন’ পুনরায় যাচাই করা হোক। পাশাপাশি জেলা প্রশাসন ও পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হোক, যাতে তাঁরা সাংবাদিক পরিচয় দাবি করা প্রত্যেক ব্যক্তির পরিচয় ও পেশাগত বৈধতা সতর্কতার সঙ্গে খতিয়ে দেখে। এটি নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি যে শুধুমাত্র স্বীকৃত ও প্রতিষ্ঠিত সংবাদমাধ্যমের প্রকৃত সাংবাদিকদেরই ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের আশেপাশে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। পাশাপাশি তাদের পরিচয়পত্রের দ্বিতীয় স্তরের যাচাই বাধ্যতামূলক করতে হবে বলেও দাবি করেছেন শুভেন্দু।

উল্লেখ্য, নির্বাচন সংক্রান্ত খবর করতে গেলে ভোটকেন্দ্র এবং গণনাকেন্দ্রে ঢোকার বিশেষ অনুমতিপত্র সাংবাদিকদের দেওয়া হয়। সেটা অবশ্যই নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে হয়। সেই পরিচয়পত্র তৈরি করে রাজ‍্য সরকারের তথ‍্য এবং সংস্কৃতি দফতর। তাঁরাই ঠিক করে কাদের অনুমতি দেওয়া হবে আর কাদের দেওয়া হবে না। এ ক্ষেত্রে দুই ধরণের অনুমতি পাওয়া যায়। এক, নবান্ন থেকে এবং অপরটি জেলা তথ‍্য এবং সংস্কৃতি দফতরের কাছ থেকে। নবান্ন থেকে যে অনুমতি মেলে, তা দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের যেকোনও বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ কেন্দ্র বা গণনাকেন্দ্রে যাওয়া যায়। জেলার ক্ষেত্রে, ওই জেলায় যেকটি বিধানসভা কেন্দ্র রয়েছে তার অনুমোদন পাওয়া যায়।

আগামী ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হবে। আগামী ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হবে। ৪মে গণনা হবে। তার আগে এমন অভিযোগ ঘিরে আবার রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে।


Share