Congress

‘কংগ্রেস রাজ‍্যবাসীর তৃতীয় পথ,’ বিধানসভা নির্বাচনের জন‍্য ঘোষণাপত্র প্রকাশ করলেন সর্বভারতীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে

মল্লিকার্জুন খাড়্গে বলেন, “আমি এখানে অনেক বার কলকাতায় এসেছি। প্রদেশ কংগ্রেসের কার্যালয়ে গিয়েছি। গত লোকসভা নির্বাচনের সময় মলদহে গনিখান চৌধুরীর কাছে গিয়েছি। কিন্তু বিধানসভায় নির্বাচনের সময় এমন সাংবাদিক বৈঠক করিনি।”

সাংবাদিক বৈঠক করছেন কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৭ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:৫৪

বিজেপি বা তৃণমূল নয়। কংগ্রেসই পশ্চিমবঙ্গবাসীর তৃতীয় পথ। মঙ্গলবার এমনটাই জানালেন কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে। এ দিন আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে ঘোষণাপত্র প্রকাশ করেছে প্রদেশ কংগ্রেস। মল্লিকার্জুন খড়্গের হাত দিয়ে প্রকাশ করেছে কংগ্রেস। প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জয়রাম রমেশ, কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক গোলাম আহমেদ মির, প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি শুভঙ্কর সরকার, মালদহ দক্ষিণের কংগ্রেস সাংসদ ঈশা খান চৌধুরী এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

এ বারের বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস ২৯৪টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে। ২০ বছর পর ফের কংগ্রেস একক ভাবে রাজ্যের প্রতিটি আসনে প্রার্থী দিতে পেরেছে। যায়নি সিপিএমের সঙ্গে জোটে। মঙ্গলবার ধর্মতলার একটি পাঁচতারা হোটেলে কংগ্রেস সাংবাদিক বৈঠক করে বিধানসভা নির্বাচনের জন্য ঘোষণাপত্র প্রকাশ করেছে। সর্বভারতীয় কংগ্রেসের সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে বলেন, “আমি এখানে অনেক বার কলকাতায় এসেছি। প্রদেশ কংগ্রেসের কার্যালয়ে গিয়েছি। গত লোকসভা নির্বাচনের সময় মলদহে গনিখান চৌধুরীর কাছে গিয়েছি। কিন্তু বিধানসভায় নির্বাচনের সময় এমন সাংবাদিক বৈঠক করিনি। অনেক দিন পরেই সমস্ত আসনে লড়ছি। পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়নকে সামনে রেখে ঘোষণাপত্র তৈরি করা হয়েছে। চাষিদের উন্নয়ন, যুবদের জন্য কাজ-সহ একাধিক প্রকল্প আমরা রেখেছি ঘোষণাপত্রে।”

সর্বভারতীয় কংগ্রেসের সভাপতি মল্লিকার্জুনের কথায়, “গুরুত্বপূর্ণ এটাই। আমরা পয়সা বন্টনের কথা ঘোষণাপত্রে রাখছি না। আমরদের উন্নয়নই লক্ষ‍্য।” এর পরেই তৃণমূলকে আক্রমণ করে বলেন, “১৫ বছর তৃণমূল পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় রয়েছে। কোনও উন্নয়ন হয়নি। এই রাজ‍্যই আগে দেশকে পথ দেখাত। এখানকার পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে যুবকেরা বিভিন্ন রাজ্যে যায়। যে সমস্ত যুবকেরা ডিগ্রি নিয়ে ঘুরছে তাদের জন‍্য কোনও পরিকল্পনা তৃণমূল করেনি। তাই এ রাজ‍্যে উন্নয়ন দরকার।”

তৃণমূল সরকারের দুর্নীতি নিয়েও এ দিন খাড়্গে সরব হয়েছেন। তিনি বলেন, “এখানেও তো দুর্নীতি হয়েছে। আমি শুনেছি কোনও এক মন্ত্রীর বাড়িতে ৫০ কোটি টাকা পাওয়া গিয়েছে। তাই দুর্নীতি এ রাজ‍্যে একটি ইস্যু। যদি এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আনা যায় তাহলে আরও খারাপ হবে।” রাজ‍্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রদেশ কংগ্রেস আগেই সরব হয়েছিল। এ বার তা নিয়ে সরব হলেন স্বয়ং খাড়্গে। তিনি বলেন, “আমরা ক্ষমতায় এলে নারীদের উন্নয়ন করব। বিনামূল্যে তাঁদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে যাতে স্বনির্ভর হতে পারে। ফার্স্টট্রাক আদালত করা হবে। আইনশৃঙ্খলা একটি বিষয়। কোনও অপরাধকেই লঘু ভাবে নেওয়া হবে না। সে যে দলেরই হবে তাকে সুরক্ষা দেওয়া যাবে না। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা হবে।”

এ ছাড়াও, খাড়্গে বিজেপিকে আক্রমণ করেছেন। তিনি বলেছেন, “বিজেপি সারাক্ষণ বিভাজনের কথা বলে। কোনও পরিকল্পনা নেই। শুধু ভয় দেখানো ছাড়া কোনও কাজ নেই। ইডি, ইনকাম ট্যাক্স, কিছু না কিছু দিয়ে কংগ্রেস নেতাদের ভয় দেখায়। কংগ্রেসের নেতাদেরও ভাঙিয়েছে। অন‍্যদল থেকে জিতে এলেও তাঁদের ভয় দেখিয়ে নিজের দলে নিয়ে নেয়।”

মল্লিকার্জুন আরও বলেন, “আমরা যে যে রাজ্যে বলেছি, করে দেখিয়েছি। কর্নাটক, তেলেঙ্গানাতে করে দেখিয়েছি। আমাদের ইতিহাস খুলে দেখুন। ইন্দিরা গাঁধী কী করেছিলেন। গরীবের জন‍্য কাজ করেছিলেন। সেই আদর্শ নিয়েই আমরা কাজ করছি।”

প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন জয়রাম রমেশ বলেন, “২০ বছর পর নিজের ক্ষমতায় লড়ছে। পশ্চিমবঙ্গের মানুষের কাছে কংগ্রেস বুস্টার। মানুষের কাছে তৃতীয় রাস্তা দেখানো। রাজ্যের যে খামতি রয়েছে তা থেকে বাঁচতে কংগ্রেস তৃতীয় রাস্তা তৈরি করেছে। তৃণমূল এবং বিজেপি একই কয়েনের দুই পিঠ। বিজেপি এবং তৃণমূল থেকে মানুষকে বাঁচাতে চায় কংগ্রেস। কংগ্রেসই তৃতীয় রাস্তা। সেই ভাবেই ঘোষণাপত্র তৈরি হয়েছে।”


Share