Assembly Election

বিজেপি কর্মীদের ওপর লাঠিচার্জের অভিযোগ থানার আইসির বিরুদ্ধে, অভিযুক্ত অনিমেষ দাসকে ক্লোজ করল রাজ‍্য পুলিশ

ভোট পর্বে নির্বাচন কমিশন এই অনিমেষ দাসকে আসানসোল দক্ষিণ থানার আইসি করে। তার আগে হাওড়া পুলিশ কমিশনারেটের গোয়েন্দা বিভাগে কর্মরত ছিলেন। এমন পুলিশ আধিকারিকের ওপর নির্বাচনের দায়িত্ব দেওয়ায় প্রশ্ন ওঠে।

বিজেপি কর্মীদের ওপর লাঠিচার্জের ঘটনায় আইসিকে ক্লোজ করা হল।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৫ মে ২০২৬ ১১:০৫

বিজেপি কর্মীদের ওপর লাঠিচার্জের অভিযোগ থানার আইসির বিরুদ্ধে। অভিযোগের ভিত্তিতে থানার আইসিকে ক্লোজ করা হয়েছে। বিজেপি জেতার আনন্দে তাঁরা আবির খেলছিলেন। সূত্রের খবর, সেই সময় দলবল নিয়ে এসে লাঠিচার্জ করে বলে অভিযোগ উঠেছে। পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোলে ঘটনাটি ঘটেছে।

অভিযুক্ত আইসির নাম অনিমেষ দাস। তিনি আসানসোল দক্ষিণ থানার আইসি পদে কর্মরত ছিলেন। নির্বাচন কমিশন তাঁকে ভোট পর্বে আসানসোল দক্ষিণ থানার আইসি পদে নিযুক্ত করে। সোমবার বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ঝড়ে কার্যত খড়কুটোর মতো উড়ে গিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। বিজেপির এই ফলাফল জানার পরে সোমবার রাতে আসানসোল শহরে জিটি রোডে বড় পোস্ট অফিস সংলগ্ন এলাকায় বিজেপির কর্মীরা আবির মেখে নাচানাচি করছিলেন। সেই সময় আসানসোল দক্ষিণ থানার আইসি অনিমেষ দাসের নেতৃত্বে বাহিনী এসে তৃণমূলের পার্টি অফিসে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ তুলে লাঠিচার্জ করেছে। রাস্তায় ফেলে বিজেপি কর্মীদের মারা হয়েছে। এর পরেই আসানসোল দক্ষিণ থানার আইসি অনিমেষ দাসকে ক্লোজ করেছে রাজ্য পুলিশ।

এর আগেও একাধিক বার এই পুলিশ আধিকারিক অনিমেষ দাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। কৃষ্ণনগর জেলা পুলিশের ডিআইবি পদে কর্মরত থাকাকালীন এক মহিলা কনস্টেবলকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে অভিযুক্ত এই পুলিশ আধিকারিক অনিমেষ দাস। গতবছর ২১ ফেব্রুয়ারি এই ঘটনাটি ঘটেছিল। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, নবদ্বীপ থানার এক মহিলা কনস্টেবলকে দুপুরবেলা প্রকাশ্য রাস্তায় শ্লীলতাহানি করেছেন। ওই দিন খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে চাকদহ থানার পুলিশ যায়। তার পরে থানায় নিয়ে গিয়ে অনিমেষকে থানায় নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। অভিযোগ দায়ের করার পরে তাঁকে গ্রেফতার করে। পরক্ষণেই তাঁকে সাসপেন্ড করে দেওয়া হয়। বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়। অনিমেষের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানি, বেআইনি ভাবে আটক, মারধর, ভয় দেখানো-সহ একাধিক ধারায় মামলা করে পুলিশ। বেশ কয়েক দিন জেলও খেটেছেন। পুলিশ মহলে খবর, ছলেবলে কৌশলে তিনি চাকরিতেও যোগ দেন। 

ভোট পর্বে নির্বাচন কমিশন এই অনিমেষ দাসকে আসানসোল দক্ষিণ থানার আইসি করে। তার আগে হাওড়া পুলিশ কমিশনারেটের গোয়েন্দা বিভাগে কর্মরত ছিলেন। এমন পুলিশ আধিকারিকের ওপর নির্বাচনের দায়িত্ব দেওয়ায় প্রশ্ন ওঠে। অনিমেষের বিরুদ্ধে তৃণমূলকে বাড়তি সুবিধা পাইয়ে দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। এ বার বিজেপি কর্মীদের ওপর লাঠিচার্জ করে ক্লোজ হলেন ‘কীর্তিমান’ অনিমেষ দাস।


Share