Asit Majumdar

‘চ‍্যালেঞ্জ করছি, তৃণমূল ছেড়ে নির্দলে দাঁড়ান, হরাব,’ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক বিদায়ী তৃণমূল বিধায়ক অসিত মজুমদার

অসিত মজুমদারের দাবি, “চুঁচুড়ায় দলের মধ্যে গোষ্ঠীবাজি তৈরি করেছেন সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়।” তিনি আরও বলেন, “ওঁকে চ্যালেঞ্জ করছি, দল ছেড়ে নির্দলে দাঁড়ান। আমিও নির্দলে দাঁড়িয়ে ওঁকে হারিয়ে দেব।”

(বাঁ দিক থেকে) হুগলির সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং চুঁচুড়ার তৃণমূল বিধায়ক অসিত মজুমদার।
নিজস্ব সংবাদদাতা, চুঁচুড়া
  • শেষ আপডেট: ২৯ মার্চ ২০২৬ ০৭:১৮

বিধানসভার নির্বাচনের আগে হুগলির চুঁচুড়ায় তৃণমূল কংগ্রেসের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব আবার প্রকাশ্যে এল। রবিবার সকালে দলের সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন চুঁচুড়ার বিদায়ী তৃণমূল বিধায়ক অসিত মজুমদার। তিনি সাংবাদিক বৈঠক করে দলের সাংসদের ভূমিকায় ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন।

অসিত মজুমদার বলেন, “চুঁচুড়ায় দলের মধ্যে গোষ্ঠী তৈরি করেছেন সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়।” তাঁর কথায়, এতো দিন চুঁচুড়ায় কোনও গোষ্ঠী ছিল না। রচনা আসার পর থেকেই এই গোষ্ঠী তৈরি হয়েছে।

অসিত বলেন, ৭৪ জন বিধায়ক এ বারে তৃণমূলের টিকিট পায়নি। রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁদেরকে অপমান করেছেন। কেষ্ট মুখোপাধ্যায়, আকবর আলি খন্দকারের পরে তপন দাশগুপ্ত হুগলি জেলার সভাপতি ছিলেন। তাঁর ওপরেও মানুষের আস্থা নেই। সাংসদ ছিলেন রত্না দে নাগ, তাঁরও ওপরেও মানুষের আস্থা এবং ভালোবাসা নেই। শুধু ভালোবাসা, আস্থা আর বিশ্বাস রচনার ওপরই আছে। এর পরেই তিনি রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বলেন, “ওঁকে চ্যালেঞ্জ করছি, দল ছেড়ে নির্দলে দাঁড়ান। আমিও নির্দলে দাঁড়াচ্ছি। আজ থেকে ৯ মে পর্যন্ত সময় আছে। ওঁকে যদি হারাতে না পারি নেড়া হয়ে হুগলি জেলা ঘুরব।”

এমনকী, এ দিন অসিত মজুমদার তৃণমূল প্রার্থী দেবাংশু ভট্টাচার্যকেও ‘মিথ্যাবাদী’ বলেছেন। তিনি বলেছেন, ও সেদিন দেখা করে যাওয়ার পরে বলেছিল আমি পরের দিন আসব। কিন্তু আসেনি। দেবাংশু মিথ‍্যা কথা বলেছে।” বিদায়ী বিধায়ক এখানেই থেমে থাকেননি। তিনি দলের সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে বলেছেন, “তিনি আমি, তপন দাশগুপ্ত সিপিএমের বিরুদ্ধে লড়াই করা লোক। ওঁর মতো সাজগোজ করে পাউডার মেখে রাজনীতি করার লোক নই। আমাদের সম্মান আছে। ওঁর গ্রামের দিকের মানুষ সিরিয়াল দেখে লোকে চিনতে পারে। শহরে ওর কোনও গ্রহণযোগ্যতা নেই।”

প্রবীণ তৃণমূল নেতা আরও বলেন, “রচনা দলের ক্ষতি করছে। দেবাংশু আর রচনার কথায় দল চলবে, তা হতে পারে না। আমরা কি বানের জলে ভেসে এসেছি!” এর সঙ্গে তিনি এ-এ জানান, “দেবাংশু যদি মনে করে রচনা জেতাতে পারবে তাহলে সে বুঝুক। যদি দেবাংশু হারে, দায়ী থাকবে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়।” এ ছাড়াও, বিধানসভা নির্বাচনের টিকিট কাটার পেছনে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় দায়ী বলেও মন্তব্য করেন অসিত মজুমদার। 

অপরদিকে, নাম না করে চুঁচুড়ার বিদায়ী তৃণমূল বিধায়ক অসিত মজুমদারকে আক্রমণ করেছেন রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “পরেনো বছরে কিছু করেনি। চুঁচুড়ার মানুষ গত ১৫ বছর ধরে যে অভিযোগ করেছেন, যে কষ্টের মধ্যে বলে গেছেন, ওদের জন্য কি আছে?” দেবাংশুর প্রচারে এসে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সংযোজন, “চুঁচুড়াবাসীর জন্য দেবাংশু আছে। ওর সঙ্গে আমি, রচনা আছি। দেবাংশু, পাঁচ বছরে দেখিয়ে দেবে, যা গত ১৫ বছর ধরে কেউ করতে পারেননি।”

অসিত মজুমদারের অভিযোগ প্রসঙ্গে রচনা বলেন আরও বলেন, “এটা হাস্যকর বক্তব্য। আমার কাছে কোনো উত্তর নেই। উনি যা ইচ্ছে বলতেই পারেন। আমার একটাই লক্ষ্য আমাকে এক মাস খাটতে হবে। আমার প্রার্থীদের জেতাতে হবে। এর বাইরে কে কি বলছে আমি এক কান দিয়ে ঢোকাই এক কান দিয়ে বের করে দিই।”

বিধানসভা নির্বাচনে চুঁচুড়া বিধানসভায় এ বারে অসিত মজুমদারকে আর টিকিট দেয়নি দল। তিনবারের বিধায়ককে টিকিট না দিয়ে দেবাংশু ভট্টাচার্যকে প্রার্থী করেছে। তার পর থেকেই তিনি বেসুরো হয়েছেন। টিকিট ঘোষণার হওয়ার দিন তিনি রাজনীতি থেকে অবসরের কথা জানালেও পরেই দিনই তৃণমূল প্রার্থীকে নির্বাচনে জেতাবেন বলে জানিয়েছিলেন। কিন্তু এ বার ঘটনাটি অন্য। তাঁর নিশানায় দলেরই সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে নির্বাচনের মুখে রচনাকে নিয়ে মন্তব্য করায় টিকিট না পাওয়ার কারণকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন প্রবীণ তৃণমূল নেতা— এমনটাই বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহল। 

এ বিষয়ে দেবাংশু বলেন, “যদি বিধায়ক সাহেব কিছু বলে থাকেন সেটা আমরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করব।রাজনৈতিক লড়াইটা বিজেপির বিরুদ্ধে। বিজেপি এতে কোন অক্সিজেন পাবে না।”


Share    

TMC