By-Election

‘দালালি করবেন না’, পুলিশের সঙ্গে বচসা! রেজিনগরে দলীয় কার্যালয় থেকে আটক হুমায়ুন কবীর

তার কিছুক্ষণের মধ্যেই পুলিশ রেজিনগরে নিজের দলীয় কার্যালয় থেকে তাঁকে আটক করে থানায় নিয়ে গেল। সেখানে পুলিশকর্মীদের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডা এবং ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটে।

আটক হুমায়ুন কবীর।
নিজস্ব সংবাদদাতা, রেজিনগর
  • শেষ আপডেট: ০৬ অক্টোবর ২০২৬ ০৯:৫১

ভোটের দিন সকাল থেকেই পুলিশের বিরুদ্ধে সরব ছিলেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীর। ভোট দিয়ে বেরিয়েও তিনি পুলিশের উদ্দেশ্যে একের পর এক কটূক্তি ও তোপ দাগেন। তার কিছুক্ষণের মধ্যেই পুলিশ রেজিনগরে নিজের দলীয় কার্যালয় থেকে তাঁকে আটক করে থানায় নিয়ে গেল। সেখানে পুলিশকর্মীদের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডা এবং ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটে।

মঙ্গলবার সকালে ভোট দিতে যাওয়ার সময় থেকেই হুমায়ুন পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছিলেন। তাঁর অভিযোগ, সকাল থেকেই তাঁর বাড়ির সামনে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। ভোটের লাইনে দাঁড়িয়েও তিনি পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। ভোট দিয়ে বেরিয়ে বুথের বাইরেও একই সুরে পুলিশকে আক্রমণ করেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির নেতা। তাঁর দাবি, রেজিনগরের বিভিন্ন বুথে পুলিশ মোতায়েন করে ভোটারদের উপর চাপ তৈরি করা হচ্ছে।

ভোট দেওয়ার পর হুমায়ুন দলীয় কার্যালয়ে চলে যান। কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে পৌঁছে যায় পুলিশের একটি দল। পুলিশকর্মীদের সঙ্গে তাঁর তীব্র বচসা শুরু হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে হুমায়ুনকে বলতে শোনা যায়, “দালালি করবেন না, দালালি করবেন না।” এরপর পুলিশকর্মীদের সঙ্গে তাঁর ধস্তাধস্তি হয়। শেষ পর্যন্ত জামা ধরে টানতে টানতে তাঁকে পুলিশের গাড়িতে তোলা হয়। সেখান থেকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে।

এর আগে পুলিশের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে হুমায়ুন বলেন, “প্রত্যেকটা বুথে অ্যালসেশিয়ান ছেড়ে দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী।” বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর কথায়, আম জনতা উন্নয়ন পার্টির নেতা বাহিনীকে বিঁধে বলেন, “পুলিশ যদি আমাকে মারতে আসে, আমি পুলিশকে ছেড়ে দেব না কি!” রেজিনগরবাসীকে ‘মুগুর নিয়ে’ রুখে দাঁড়ানোর বার্তাও দেন। তিনি আরোও বলেন, “পুলিশ ধোয়া তুলসিপাতা না কি! শুভেন্দু অধিকারীর পুলিশ ভোটের নামে মানুষের অধিকার ছিনিয়ে নেবে? আমাদের ৬৪ জনকে গ্রেফতার করেও শান্তি হয়নি। আজ সকালে পুলিশ যে ধরনের আচরণ করছে, মানুষকে বলব এদের বিরুদ্ধে মুগুর নিয়ে দাঁড়াতে। পুলিশ যদি আমাকে মারতে আসে, আমি পুলিশকে ছেড়ে দেব না কি?”

হুমায়ুনের এই মন্তব্যের পরই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত দলীয় কার্যালয় থেকে তাঁকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। ভোটের দিন রেজিনগরে এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হয়েছে।


Share