Suspension of BDO

হাঁসখালির বিডিও সায়ন্তন সাসপেন্ড, ভোট প্রশিক্ষণকেন্দ্রে শিক্ষক নিগ্রহের জেরে কড়া পদক্ষেপ কমিশনের

কমিশনের বক্তব্য, তাঁর এই গাফিলতি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রচেষ্টাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। সেই কারণেই সাসপেনশনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

(বাঁ দিক থেকে) সায়ন্তন ভট্টাচার্য (বিডিও) এবং আক্রান্ত ভোটকর্মী সৈকত চট্টোপাধ্যায়।
নিজস্ব সংবাদদাতা, হাঁসখালি
  • শেষ আপডেট: ৩১ মার্চ ২০২৬ ১১:৫৭

হাঁসখালি ব্লকের বিডিও সায়ন্তন ভট্টাচার্য-কে সাসপেন্ড করল নির্বাচন কমিশন। বিগত চার দিন আগে রানাঘাটের একটি স্কুলে ভোটের প্রশিক্ষণে অংশ নিতে গিয়ে এক শিক্ষক নিগ্রহের অভিযোগ তোলেন, সেই ঘটনার জেরেই এই পদক্ষেপ। এর আগে কমিশন সায়ন্তনকে শো-কজ নোটিস পাঠিয়েছিল, পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশও দেয়।

কমিশনের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বিডিও হাঁসখালি-তে ভোট প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সামগ্রিক দায়িত্বে ছিলেন। কিন্তু নির্বাচনী দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন এবং প্রয়োজনীয় প্রোটোকল বজায় রাখতে তিনি ব্যর্থ হন। কমিশনের বক্তব্য, তাঁর এই গাফিলতি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রচেষ্টাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। সেই কারণেই সাসপেনশনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটে চলতি মাসের ২৭ তারিখ রানাঘাট দেবনাথ ইনস্টিটিউট ফর বয়েজ স্কুল-এ। সেখানে ভোট প্রশিক্ষণে গিয়ে শিক্ষক সৈকত চট্টোপাধ্যায় আক্রান্ত হওয়ার অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের প্রতিবাদ করায় বিডিও-র উপস্থিতিতেই তাঁর উপর হামলা হয়। সৈকতের সহকর্মীদের অভিযোগ, প্রশিক্ষণের শুরুতে প্রোজেক্টরের মাধ্যমে রাজ্য সরকারের উন্নয়নমূলক কাজ এবং জগন্নাথ মন্দির নির্মাণ সংক্রান্ত ভিডিয়ো দেখানো হয়েছিল। আপত্তি ওঠার পরই উত্তেজনা ছড়ায়।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হলে সায়ন্তন ভট্টাচার্য সাফাই দেন। তিনি প্রশিক্ষণকেন্দ্রে গোলমালের কথা স্বীকার করলেও মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেন। বিরোধীরা প্রশ্ন তোলে, ভোট প্রশিক্ষণকেন্দ্রে কেন সরকারি প্রকল্পের প্রচারমূলক ভিডিয়ো দেখানো হল। এ প্রসঙ্গে শ্রীকান্ত পল্লি জানান, ভুলবশত প্রোজেক্টরে মুখ্যমন্ত্রীর ছবি উঠে এসেছিল, যদিও সেটি নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ বলেও তিনি স্বীকার করেন। কমিশনের কাছে রিপোর্ট পাঠানো হয় এবং ঘটনায় জড়িত দুই কর্মীর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়। পরে তাঁদের গ্রেফতার করা হলেও বর্তমানে তাঁরা জামিনে মুক্ত।

সাসপেনশনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন সৈকত চট্টোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, এই পদক্ষেপ আসন্ন নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় গণতন্ত্র রক্ষায় কমিশনের ইতিবাচক ভূমিকার বার্তা দেবে এবং পক্ষপাতদুষ্ট আমলাদের কাছেও এটি এক ধরনের সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে।


Share