Assembly Election

জগদ্দল থানার বাইরে সংঘর্ষের ঘটনায় ধৃত তৃণমূল কাউন্সিলর-সহ চার জন, পেশ করা হবে আদালতে

রবিবার জগদ্দলের ঘটনায় মোট চার জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার ধৃতদের আদালতে হাজির করাবে পুলিশ। বাকিদের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে। দ্রুত পদক্ষেপ করতে নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

জগদ্দলে সংঘর্ষের ঘটনায় গ্রেফতার চারজন।
নিজস্ব সংবাদদাতা, উত্তর ২৪ পরগনা
  • শেষ আপডেট: ২৭ এপ্রিল ২০২৬ ১২:৩০

জগদ্দলে বিজেপি এবং তৃণমূলের সংঘর্ষের ঘটনায় তৃণমূল কাউন্সিলরকে গ্রেফতার করল পুলিশ। সঙ্গে আরও তিন তৃণমূল কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আজই ধৃতদের ব‍্যরাকপুর আদালতে পেশ করানো হবে।

ধৃত তৃণমূল কাউন্সিলরের নাম গোপাল রাউত। তিনি ভাটপাড়া পুরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর। সঙ্গে আরও তিনজন তৃণমূল কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জগদ্দল থানার বাইরে বিজেপি এবং তৃণমূলের সংঘর্ষের ঘটনার তদন্তে নেমে এখনও পর্যন্ত চার অভিযুক্তকে পুলিশ গ্রেফতার করে। পুলিশ সূত্রের খবর, গতরাতে মোট ১৫ জন অভিযুক্তর বাড়িতে পুলিশ তল্লাশি চালিয়েছে। যদিও এই চারজন বাদে, আর কাউকেই বাড়িতে পাওয়া যায়নি। বাকিদের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে। অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে দ্রুত পদক্ষেপ করতে নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সোমবার ধৃতদের ব‍্যারাকপুর আদালতে হাজির করানো হবে। 

রবিবার রাতে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় জগদ্দল থানার চত্বর। জগদ্দলের বিজেপি প্রার্থী রাজেশ কুমার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মামলা করার থানায় গিয়েছিলেন। সেই সময় আচমকা থানায় পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলর মনোজ পান্ডে, সৌরভ সিংহ সেখানে পৌঁছোন। তাঁদের সঙ্গে বাকি তৃণমূলের কর্মীরাও ছিলেন। এই খবর পেয়েই জগদ্দল থানায় পৌঁছে যান ব‍্যারাকপুরের প্রাক্তন সাংসদ তথা নোয়াপাড়ার বিজেপি প্রার্থী অর্জুন সিংহ। অভিযোগ, তিনি গাড়ি থেকে নেমেই থানার গেটের সামনে রীতিমতো গুন্ডাগিরি শুরু করে দেন। এমনকী, তিনি তৃনমূল নেতাদের বেধড়ক মারতে শুরু করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এর পরেই দু’পক্ষের মধ্যে তুমুল হাতাহাতি শুরু হয়ে যায়। ব‍্যপক ধাক্কাধাক্কি থেকে চড়-ঘুষি চলতে থাকে। বিজেপি নেতা নিজেই তৃণমূল কর্মীদের মারতে উদ্যত হন। তৃণমূলের কর্মীরাও বিজেপি নেতা অর্জুনের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন। অর্জুনের সঙ্গে থাকা দেহরক্ষী কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরা আটকানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু তাতেও কোনও লাভ হয়নি। এমনকী, থানার ভেতরেও তৃণমূল এবং বিজেপির সমর্থকদের মারপিট হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। ঠিক তার কিছু ক্ষণের মধ্যেই থানার বাইরে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। দু’পক্ষই একে অপরের দিকে মারতে উদ্যত হয়ে। একে অপরকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া শুরু হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে রীতিমতো হিমশিম খায় পুলিশ। ডাকা হয় কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের। তাঁরা এসে মৃদু লাঠিচার্জ করে। তার পরেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

এর পরেই অর্জুনের পুত্র তথা জগদ্দলের বিজেপি প্রার্থী পবনকুমার সিংহের বাড়িতে বিক্ষোভ আছড়ে পড়ে। বিজেপি প্রার্থীর অভিযোগ, তাঁর বাড়ি লক্ষ্য করে তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা এলোপাথাড়ি ইট ছুড়তে শুরু করেন। তার সঙ্গে চলে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ। পরিস্থিতি সামাল দিতে বেরিয়ে আসেন পবনের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সিআইএসএফ জওয়ান যোগেশ শর্মা। তখনই আচমকাই গুলির শব্দে কেঁপে ওঠে এলাকা। কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান যোগেশ রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়েন। তাঁর পায়ে গুলি লেগেছে বলে জানা গিয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে আহত জওয়ানকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই তাঁর চিকিৎসা চলছে।


Share