By-Election

নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে অশান্তির আশঙ্কা, নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ শুভঙ্করের

এলাকায় সশস্ত্র বহিরাগতদের জমায়েত এবং রাতের অন্ধকারে বাইক বাহিনীর দাপাদাপির অভিযোগও তুলেছে কংগ্রেস। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনের অবিলম্বে হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি।

প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৬ অক্টোবর ২০২৬ ১১:৫২

নন্দীগ্রাম উপনির্বাচন ঘিরে অশান্তির আশঙ্কা প্রকাশ করে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দ্বারস্থ হলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার। কংগ্রেস কর্মী থেকে সাধারণ ভোটার—সকলের মধ্যেই ভয় ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁর। এলাকায় সশস্ত্র বহিরাগতদের জমায়েত এবং রাতের অন্ধকারে বাইক বাহিনীর দাপাদাপির অভিযোগও তুলেছে কংগ্রেস। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনের অবিলম্বে হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি।

শুভঙ্কর সরকারের অভিযোগ, নন্দীগ্রামে ভোটারদের ভয় দেখানোর চেষ্টা চলছে। তাঁর দাবি, রাতের অন্ধকারে বাইক বাহিনী এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ ও কংগ্রেস কর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করছে। এই পরিস্থিতিতে ভোটের দিন যাতে কোনওরকম অশান্তি না হয়, সে বিষয়ে কমিশনকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার আর্জি জানিয়েছেন তিনি।

এর পাশাপাশি মালদহের একটি ঘটনাকে সামনে এনে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন শুভঙ্কর। তাঁর দাবি, গতকাল রাতে মালদহ জেলা কংগ্রেস সভাপতি তথা সাংসদ ঈশা খান চৌধুরী মালদহ জেলা পরিষদের তিন সদস্যকে নিয়ে পাকুড় থেকে ফিরছিলেন। মালদহ স্টেশনে পৌঁছনোর পর স্টেশনের বাইরে বিজেপির বিশাল বাহিনী জমায়েত হয়েছিল বলে অভিযোগ। এরপর ট্রেনের ভিতরে ঢুকে পুলিশ ওই তিন জেলা পরিষদ সদস্যকে কোনও কারণ ছাড়াই আটক করে বলে দাবি কংগ্রেসের।

শুভঙ্করের দাবি, ওই তিন জেলা পরিষদ সদস্য কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি মালদহ জেলা পরিষদে কংগ্রেসকে সমর্থনের কথা ঘোষণা করতে চলেছিলেন। সেই কারণেই তাঁদের বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর।

প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি বলেন, “এই রাজ্যে যারা বিজেপির বিরোধিতা করছেন, তাঁদেরই নানাভাবে হেনস্থা করা হচ্ছে। কেউ কংগ্রেসকে সমর্থনের কথা ঘোষণা করলেই বা কংগ্রেসে যোগ দিলেই পুলিশ দিয়ে মিথ্যা মামলায় তাঁদের হেনস্থা করা হচ্ছে। অথচ যারা পরোক্ষে বিজেপিকে সমর্থন করছেন বা সরাসরি বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন, তাঁরা একাধিক অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েও মুক্তভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।”

পুলিশের ভূমিকা নিয়েও সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন শুভঙ্কর। তাঁর দাবি, যাঁদের আটক করা হয়েছে, তাঁদের পুলিশি সুরক্ষার নির্দেশ রয়েছে কলকাতা হাইকোর্টের। সেই নির্দেশ অমান্য করে পুলিশ যে পদক্ষেপ করেছে, তা সম্পূর্ণ বেআইনি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এই ঘটনার প্রতিবাদে পথে নামার পাশাপাশি আইনি লড়াইয়ের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি। তাঁর দাবি, নন্দীগ্রামে যাতে ভোটাররা ভয়মুক্ত পরিবেশে ভোট দিতে পারেন, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের।


Share