Assembly Election

কর্তব‍্যে গাফিলতির অভিযোগ, এ বার ডায়মন্ড হারবারের এক আইপিএস-সহ পাঁচজন পুলিশ আধিকারিকের সাসপেন্ড করল নির্বাচন কমিশন

উল্লেখ্য, শুক্রবার সকালেই হিঙ্গলগঞ্জের ওসিকে সাসপেন্ড করেছে নির্বাচন কমিশন। তাঁর বিরুদ্ধেও এলাকায় অসাধু চক্র, তৃণমূলকে সুবিধা করে দেওয়ার মতো অভিযোগ উঠেছে। তাঁর বিরুদ্ধেও বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পাঁচ জন পুলিশ আধিকারিক সাসপেন্ড।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৫ এপ্রিল ২০২৬ ০১:১৯

কর্তব‍্যে গাফিলতির অভিযোগে এ বার আইপিএস অফিসারকে সাসপেন্ড করল নির্বাচন কমিশন। ডায়মন্ড হারবারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সন্দীপ গড়াইকে সাসপেন্ড করে দিল কমিশন। একই সঙ্গে ওই পুলিশ জেলার এসডিপিও-সহ মোট পাঁচ জনকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। জেলা পুলিশের সুপারকেও সতর্ক করেছে নির্বাচন কমিশন।

শুক্রবার রাতে নির্বাচন কমিশন রাজ্যের মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিয়ালাকে নির্দেশ দিয়েছে। কমিশন, ডায়মন্ড হারবারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আইপিএস সন্দীপ গড়াইকে সাসপেন্ড করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তাঁর সাসপেনশনের খবর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের কাছে পাঠাতে বলা হয়েছে। এর পাশাপাশি ডায়মন্ড হারবারের এসডিপিও সজল মন্ডলকেও সাসপেন্ড করা হয়েছে। চলতি বিধানসভা নির্বাচনের আবহে এই প্রথম কোনও আইপিএস অফিসার বা এসডিপিও পদমর্যাদার অফিসারকে সাসপেন্ড করল নির্বাচন কমিশন।

এ ছাড়াও, ডায়মন্ড হারবার থানার আইসি মৌসম চক্রবর্তী, ফলতা থানার আইসি অজয় বাগ এবং উস্তি থানার ওসি শুভেচ্ছা বাগকে সাসপেন্ড করে দেওয়া হয়েছে। কমিশন সূত্রের খবর, এই সমস্ত আধিকারিক কমিশনের নির্দেশ ঠিকমতো পালন করছিলেন না। তৃণমূলকে অতিরিক্ত সুবিধা পাইয়ে দিচ্ছিলেন। স্থানীয় তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে চক্র তৈরি করেছিলেন। বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও তাঁরা কমিশনের কথা শোনেননি। জানা গিয়েছে, গত ২২ এপ্রিল রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর থেকে এই সমস্ত আধিকারিকের বিরুদ্ধে রিপোর্ট নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠানো হয়। সেই রিপোর্ট তাঁরা খতিয়ে দেখে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দিয়েছে। এই সমস্ত দুই পুলিশকর্তা এবং তিন আধিকারিকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর পাশাপাশি জেলা পুলিশের সুপার ইশানি পালকেও সতর্ক করা হয়েছে। কারণ জেলা পুলিশের সুপার তিনি। কমিশন মনে করছে, অধস্তন আধিকারিকেরা ঠিকমতো কাজ বা নির্দেশ পালন করছেন কি না তা তদারকির দায়িত্বে জেলা পুলিশের সুপারের। কমিশন এ-ও মনে করেছে, পক্ষপাতহীন, সুশৃঙ্খলা এবং নির্বাচনের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এই পদক্ষেপ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কমিশনের নির্দেশ ঠিকঠাক পালন হয়েছে কি না তা বিস্তারিত রিপোর্ট আগামীকাল, শনিবার সকাল ১১টার মধ্যে রাজ্যের মুখ্যসচিবকে পাঠিয়ে দিতে বলা হয়েছে।

উল্লেখ্য, শুক্রবার সকালেই হিঙ্গলগঞ্জের ওসিকে সাসপেন্ড করেছে নির্বাচন কমিশন। তাঁর বিরুদ্ধেও এলাকায় অসাধু চক্র, তৃণমূলকে সুবিধা করে দেওয়ার মতো অভিযোগ উঠেছে। তাঁর বিরুদ্ধেও বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, প্রথম দফার নির্বাচনে স্বাধীনতার পরবর্তী রেকর্ড ভোটদান হয়েছে। শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হয়েছে। শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করাতে পুলিশের যে ভূমিকা থাকে তা আগে থেকেই গুরুত্ব দিয়ে দেখেছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনের আগে থেকেই পুলিশের ওপরে রাজনৈতিক প্রভাব দূর করতে বদলি করা হয়েছে। এমনকী, সাসপেন্ড করার পথেও কমিশন হেঁটেছে। এ বার সেই তালিকায় যুক্ত হল আইপিএস পদমর্যাদার অফিসারের নাম।


Share