Election Commission

রণক্ষেত্র জগদ্দল, গুলিবিদ্ধ কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান, পলাতকদের ধরতে কড়া নির্দেশ নির্বাচন কমিশনের

এই ঘটনায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর এক জওয়ান গুরুতর আহত হন। ঘটনার পরেই বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করে নির্বাচন কমিশন।

জগদ্দলে তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষ
নিজস্ব সংবাদদাতা, জগদ্দল
  • শেষ আপডেট: ২৭ এপ্রিল ২০২৬ ০১:২৮

উত্তর ২৪ পরগনার জগদ্দলে অশান্তির ঘটনায় কড়া অবস্থান নিল নির্বাচন কমিশন। পলাতক অভিযুক্তদের দ্রুত চিহ্নিত করে গ্রেফতারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে পুলিশকে।

রবিবার রাত প্রায় ১১টা নাগাদ জগদ্দলে তৃণমূল ও বিজেপি প্রার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা চরমে ওঠে। পরিস্থিতি ক্রমেই অশান্ত হয়ে ওঠে এবং বোমাবাজির ঘটনাও ঘটে। এই ঘটনায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর এক জওয়ান গুরুতর আহত হন। ঘটনার পরেই বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করে নির্বাচন কমিশন।

সূত্রের খবর, ওই রাতে বিজেপি প্রার্থী জগদ্দল থানায় এফআইআর দায়ের করতে গেলে উত্তেজনা ছড়ায়। অভিযোগ, সেই খবর পেয়ে তৃণমূলের প্রায় ২০০ জন সমর্থক থানায় পৌঁছে যান এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে তৃণমূল প্রার্থীও সেখানে উপস্থিত হলে উত্তেজনা আরও বাড়ে।

থানার সামনেই দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। অভিযোগ, বোমা, আগ্নেয়াস্ত্র এবং ইট-পাটকেল ছোঁড়া হয়। তাতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর এক জওয়ান গুরুতর জখম হন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের বড় বাহিনী মোতায়েন করা হয়। ইতিমধ্যেই চার জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে কৌশিক দাস, সিকন্দার প্রসাদ, গোপাল রাউত এবং শ্যামদেব সাউ। তবে আরও কয়েক জন অভিযুক্ত এখনও পলাতক।

নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে, পলাতকদের দ্রুত গ্রেফতার করতে হবে এবং এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে।

ঘটনার সূত্রপাত জগদ্দলের আটচলা বাগান এলাকায়। সন্ধ্যায় দুই দলের সংঘর্ষের খবর পেয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও র‍্যাফ সেখানে পৌঁছোয়। তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে নোয়াপাড়ার বিজেপি প্রার্থী অর্জুন সিংহকে নিয়ে জগদ্দল থানায় যান প্রাক্তন আইপিএস অফিসার তথা বিজেপি প্রার্থী রাজেশ।

বিজেপির অভিযোগ, থানার ভিতরেই তাঁদের উপর হামলা চালানো হয় এবং ইট ছোঁড়া হয়। অর্জুন সিংহের দাবি, তাঁদের লক্ষ্য করে পরিকল্পিত ভাবে হামলা করা হয়েছে। রাজেশ অভিযোগ করেন, শাসকদলের প্ররোচনাতেই এই ঘটনা ঘটেছে।

অন্যদিকে, ভাটপাড়ার তৃণমূল প্রার্থী অমিত গুপ্ত পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, তাঁদের এক কর্মীকে বিজেপি মারধর করে। অভিযোগ জানাতে গেলে বিজেপি কর্মীরাই তাঁদের উপর চড়াও হয়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের কথায়, দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক ইটবৃষ্টি শুরু হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে লাঠিচার্জ করতে হয়। রাতভর এলাকায় মোতায়েন ছিল বিশাল পুলিশবাহিনী।


Share