Election Commission

কালিয়াচকের ঘটনার পরে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ডাকল নির্বাচন কমিশন, দিলেন একাধিক নির্দেশ

এসমস্ত ঘটনার পরেই বৃহস্পতিবার রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে ভিডিয়ো কনফারেন্সে করেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারীক মনোজকুমার আগরওয়াল। এই ভিডিয়ো কনফারেন্সে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্য সচিব, ডিজিপি, এডিজি আইনশৃঙ্খলা, কলকাতা পুলিশের কমিশন এবং প্রত্যেক জেলার নির্বাচনী আধিকারিক।

রাজ্যের সিইও মনোজকুমার আগরওয়াল
নিজস্ব সংবাদদাতা, কালিয়াচক
  • শেষ আপডেট: ০২ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:১৬

আইনশৃঙ্খলা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। কালিয়াচকের ঘটনা কোনও স্বতঃস্পূর্ত ঘটনা নয়। বরং এই ঘটনার পূর্বপরিকল্পিত। বুধবার রাতের ঘটনা নিয়ে নজিরবিহীন মন্তব্য করলেন দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। ঘটনায় সিবিআই বা এনআইএ-কে দিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। এর পাশাপাশি, যে সব জায়গায় বিচারবিভাগীয় আধিকারিকেরা এসআইআরের কাজ করছেন, সেই সমস্ত জায়গায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এসমস্ত ঘটনার পরেই বৃহস্পতিবার রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে ভিডিয়ো কনফারেন্সে করেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারীক মনোজকুমার আগরওয়াল। এই ভিডিয়ো কনফারেন্সে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্য সচিব, ডিজিপি, এডিজি আইনশৃঙ্খলা, কলকাতা পুলিশের কমিশনার, প্রত্যেক জেলার নির্বাচনী আধিকারিক।

বুধবার বিকেল থেকে কালিয়াচক-২ ব্লকের বিডিও অফিসে তিন মহিলা বিচারবিভাগীয় আধিকারিক-সহ সাত জন বিক্ষোভের জেরে আটকে পড়েন। ১২ ঘন্টা আটকে থাকার পরে তাঁদের উদ্ধার করে নিয়ে যায় কেন্দ্রীয় বাহিনী। যাওয়ার সময়ও তাঁদের গাড়িতে হামলা চালানো হয়। ভাঙে একাধিক গাড়ির কাচ। জখম হন গাড়ির ভিতরে থাকা কয়েক জন। গাড়ির ভিতরে থাকা এক মহিলা বিচারবিভাগীয় আধিকারিকে ফোন করে আর্তনাদ করেন। বলেন, “আমায় বাঁচান। আমার পরিবারকে বাঁচান।”

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে কাজ করা বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের ওপর এমন ঘটনাকে ‘ন্যক্কারজনক’ বলে আখ্যা দিয়েছে দেশের শীর্ষ আদালত। এ দিনের ভার্চুয়াল শুনানিতে প্রধান বিচারপতি পর্যবেক্ষণে জানান, এই ঘটনা সম্পূর্ণ পূর্বপরিকল্পিত। এই ঘটনা কোনও স্বতঃস্ফূর্ত জনরোষ নয়। বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের মনোবল ভাঙার চেষ্টা করা হয়েছে। যা শীর্ষ আদালত কোনও ভাবেই মেনে নিতে পারে না। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘‘আদালতের কর্তৃত্বকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করার একটা নির্লজ্জ প্রচেষ্টা। আমরা জুডিশিয়াল অফিসারদের মনোবল ভাঙতে দেব না।’’

১২ ঘন্টা ধরে কী ভাবে বিচারবিভাগীয় আধিকারিকেরা সেখানে আটকে পড়লেন, তা নিয়ে চড়ম অসন্তোষ প্রকাশ করেন প্রধান বিচারপতি। তাঁর পর্যবেক্ষণ, বিকেল ৩টে থেকে সেখানে ঘেরাও চলে। কলকাতা হাই কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল রাজ‍্য প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের সেই ঘটনার খবর নিয়ে অবগত করেন। তা জানার পরেও প্রশাসন এতক্ষণ কেন কোনও ব‍্যবস্থা নেওয়া হল না তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এতক্ষণ ধরে তাঁরা কী ভাবে ‘নিশ্চুপ’ ছিলেন তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। মুখ‍্যসচিব, রাজ্য পুলিশের ডিজি, জেলাশাসক এবং জেলা পুলিশের সুপারের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা-ও তিনি জানতে চান। এই সমস্ত শীর্ষ কর্তাদের শোকজ করেছে সুপ্রিম কোর্ট।

রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে, এ দিনের শুনানিতে প্রধান এ-ও বলে নির্দেশিকায় বলেছেন। পাশাপাশি, ঘটনার তদন্ত কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা বা জাতীয় তদন্তকারী সংস্থাকে দিয়ে তদন্ত করতে নির্দেশ দিয়েছেন। কারা এই ঘটনার তদন্ত করবে তা অবশ্য কেন্দ্রীয় সরকারের ওপরেই ছেড়ে দিয়েছে শীর্ষ আদালত।

সুপ্রিম কোর্ট বৃহস্পতিবার স্পষ্ট জানিয়েছে, অবিলম্বে এসআইআরের কাজের সঙ্গে যুক্ত বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের নিরাপত্তার দায়িত্ব কেন্দ্রীয় বাহিনীকে দিতে নির্দেশ দিয়েছে। তাঁদের পরিবার এবং সম্পত্তির সুরক্ষার দায়িত্ব কেন্দ্রীয় বাহিনীকে দিতে বলেছে দেশের শীর্ষ আদালত।

তৃণমূলের দাবি ছিল, এই ঘটনা সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক। তৃণমূলের এমন মন্তব্য শুনেই কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন দেশের প্রধান বিচারপতি। তিনি সরাসরি রাজ‍্য সরকারের আইনজীবী কিশোর দত্তকে বলেন, আমরা জানি কী আছে। আপনাদের সব কিছুতেই রাজনীতি।” সব মিলিয়ে কালিয়াচকের ঘটনায় রাজ্যের ভূমিকায় বিরক্ত শীর্ষ আদালত।


Share