Land Scam

জমি দখল মামলায় দক্ষিণ কলকাতার প্রভাবশালী তৃণমূল নেতার বাড়িতে ইডি, বাড়ির বাইরে প্রতিবাদে দলীয় কর্মীদের বিক্ষোভ

কেন তৃণমূল নেতা কুমার সাহার বাড়িতে ইডি তল্লাশি চালাচ্ছে তার প্রতিবাদে তাঁর বাড়ির বাইরে তৃণমূলের বিক্ষোভ চলছে। তৃণমূল কর্মীদের দাবি, “ভোটের সময় কেন্দ্রীয় সংস্থার তল্লাশি চালাচ্ছে। এটা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের চক্রান্ত। তাই আমরা প্রতিবাদে সামিল হয়েছি।”

দক্ষিণ কলকাতার প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা কুমার সাহা।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৭ এপ্রিল ২০২৬ ০৩:২৮

জমি দখলে বেআইনি আর্থিক লেনদেনের অভিযোগে শহরের পাঁচ জায়গায় ইডির তল্লাশি অভিযান চলছে। দক্ষিণ কলকাতার প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা কুমার সাহার বাড়িতে ইডির আধিকারিকেরা গিয়েছেন। ইডি তল্লাশির প্রতিবাদে তাঁর বাড়ির বাইরে তৃণমূল কর্মীরা বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন। কেন ইডির আধিকারিকেরা কুমার সাহার বাড়িতে গিয়েছেন তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।

শুক্রবার সকালে সিজিও কমপ্লেক্স থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের সঙ্গে নিয়ে পাঁচটি ঠিকানায় ইডির আধিকারিকেরা পৌঁছে গিয়েছেন। কলকাতার মিডিলটন স্ট্রিটের মার্লিন গ্রুপের অফিসে তল্লাশি চলছে। দক্ষিণ কলকাতার প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা কুমার সাহার গ্রিক চার্চ রোডের বাড়িতে ইডির আধিকারিকেরা তল্লাশি অভিযান চলাচ্ছেন।

অন‍্য দিকে, সল্টলেকের দু’টি ঠিকানায় ইডি আধিকারিকেরা তল্লাশি অভিযান চলছে। জমি দখল করে বেআইনি আর্থিক লেনদেন মামলাতেই তল্লাশি অভিযান চলছে বলে জানা গিয়েছে। জানা গিয়েছে, সেখানকার সিএফ এবং সিকে ব্লকের নির্মাণকারী সংস্থার ‘ডিসি পাল’-এর দুটি অফিসে ইডির আধিকারিকেরা তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছেন। জানা গিয়েছে, ডিসি পাল গ্রুপের সুশীলকুমার ঢনঢনিয়া, বিজয়কুমার ঢনঢনিয়া, সংস্থার ডিরেক্টর কমলিনী পাল এবং প্রাক্তন ডিরেক্টর শান্তিররঞ্জন পালের বাড়িতেও তল্লাশি চলছে।

উল্লেখ্য, কালীঘাট পার্কের পিছনে মসজিদ বাড়িতেই জন্ম এবং বেড়ে ওঠা কুমার সাহার। ওই জমি জবরদখল করা বলেই স্থানীয়দের একাংশের দাবি। কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের গুন্ডাদমন শাখার পুরনো নথি বলছে, রাসবিহারী এবং ভবানীপুর এলাকার দুই কুখ্যাত গ্যাংস্টার শ্রীধর এবং মুন্না পাণ্ডের সঙ্গে কুমার ও তাঁর দলবলের একাধিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। কুমারের কালীঘাট এলাকার ‘দাদা’ হয়ে ওঠার গল্প গুন্ডাদমন শাখার অনেকেই জানেন বলে দাবি এক পুলিশ আধিকারিকের।

একাধিক বার লালবাজারের সেন্ট্রাল লক আপের ‘অতিথি’ কুমার সাহা এক সময়ে ছিলেন কংগ্রেসের ছত্রছায়ায়। ২০১৪ সালে মুকুল রায়ের হাত ধরে শাসক দলে যোগ দেওয়ার সময়ও অনেকেই ভাল ভাবে মেনে নিতে পারেননি কুমারের দলে অন্তর্ভুক্তি। কুমারের বাড়ি থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে বাড়ি তৃণমূল নেতা সুব্রত বক্সীর। কুমার যে দিন তৃণমূল ভবনে গিয়েছিলেন দলে যোগ দিতে, সে দিন উপস্থিত থাকার কথা ছিল সুব্রতবাবুরও। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি এড়িয়ে গিয়েছিলেন ওই অনুষ্ঠান। তবে তাতে কিছু আটকায়নি কুমারের।

কুমারকে পুলিশি নিরাপত্তা দেওয়ার এই সিদ্ধান্তের কথা শুনেছেন দক্ষিণ কলকাতার প্রায় সব তৃণমূল নেতাই। শাসক দলের দক্ষিণ কলকাতার এক নেতা ওই সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে অসন্তোষ চেপে রাখতে না পেরে বৃহস্পতিবার বলেন, ‘‘কার সুপারিশে কুমার নিরাপত্তা পাচ্ছে তা আমরা জানি। কুমারকে নিরাপত্তা দিলে দলেরই বদনাম হবে। গোটা দক্ষিণ কলকাতার মানুষ জানেন কুমারের অতীত এবং এখনও তিনি কী করেন।’’ তৃণমূলের একটা অংশের দাবি, কুমার যুব তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ।

২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময় বিরোধীদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া নিয়ে রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছিল আলিপুরে দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলাশাসকের অফিস। হাতে গোনা কয়েক জন বাদে কোনও বিরোধী প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিতে পারেননি সে সময়। তৃণমূলের দক্ষিণ কলকাতার এক নেতা বলেন, ‘‘গোটা ওই অপারেশনের দায়িত্বে ছিল কুমার। ওর সঙ্গী মোটা বাবু, পিন্টুরা ওই অপারেশন চালায়।’’ তৃণমূলের অন্দরে খবর, আলিপুরের ‘সাফল্য’-র পরেই যুব তৃণমূলে দলীয় নেতৃত্বের কাছে তিনি অত্যন্ত ভরসার পাত্র হয়ে উঠেছেন। যুবর যে কোনও সভায় থাকে কুমারের সঙ্গীদের বাইকের বিশাল মিছিল।

কেন তৃণমূল নেতা কুমার সাহার বাড়িতে ইডি তল্লাশি চালাচ্ছে তার প্রতিবাদে তাঁর বাড়ির বাইরে তৃণমূলের বিক্ষোভ চলছে। তৃণমূল কর্মীদের দাবি, “ভোটের সময় কেন্দ্রীয় সংস্থার তল্লাশি চালাচ্ছে। এটা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের চক্রান্ত। তাই আমরা প্রতিবাদে সামিল হয়েছি।”


Share