By-Election

রেজিনগর-নন্দীগ্রামে ভোট ‘প্রহসন’! এজেন্ট পেটানোর অভিযোগ, পুনর্নির্বাচনের দাবিতে কমিশনে কংগ্রেস

মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠকে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার দাবি করেন, দুই কেন্দ্রেই বিরোধী দলের পোলিং এজেন্টদের বুথ থেকে বের করে দেওয়া, কর্মীদের মারধর এবং ভোটারদের ভয় দেখানোর মতো ঘটনা ঘটেছে।

প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৬ অক্টোবর ২০২৬ ০৯:১৬

রেজিনগর ও নন্দীগ্রামের উপ-নির্বাচন ঘিরে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ তুলল পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস। মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠকে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার দাবি করেন, দুই কেন্দ্রেই বিরোধী দলের পোলিং এজেন্টদের বুথ থেকে বের করে দেওয়া, কর্মীদের মারধর এবং ভোটারদের ভয় দেখানোর মতো ঘটনা ঘটেছে। একাধিকবার নির্বাচন কমিশনকে অভিযোগ জানিয়েও কোনও কার্যকর পদক্ষেপ মেলেনি বলে দাবি তাঁর।

রেজিনগর থানার সামনে কংগ্রেসের অবস্থানের প্রসঙ্গ তুলে শুভঙ্কর বলেন, প্রায় সব বুথেই কংগ্রেসের এজেন্টদের মারধর করে বের করে দেওয়া হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি ছাড়া অন্য কোনও দলের লোকজনকে বুথের ভিতরে থাকতে দেওয়া হয়নি। সোমবার রাত থেকেই রেজিনগর থানার আইসির নেতৃত্বে বুথ দখলের পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে কমিশনকে জানানো হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

নন্দীগ্রাম নিয়েও একাধিক অভিযোগ সামনে আনেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি। তাঁর দাবি, ভোটের আগের রাত থেকেই বাইক বাহিনী ও গাড়িতে করে চণ্ডীপুর, কাঁথি ও হলদিয়া থেকে লোক ঢোকানো হয়েছে। কংগ্রেসের ব্লক সভাপতিকে থানায় নিয়ে গিয়ে বসিয়ে রাখার অভিযোগও করেন তিনি। তাঁর দাবি, নন্দীগ্রামের একাধিক বুথ কার্যত দখল হয়ে গিয়েছিল।

নির্বাচন পরিচালনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও সরব হন শুভঙ্কর। তাঁর অভিযোগ, পুলিশের হাতেই কার্যত নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব চলে গিয়েছিল। কোথাও কমিশনের লোকজনের সক্রিয় উপস্থিতি দেখা যায়নি বলে দাবি করে তিনি বলেন, ‘‘ভোট নয়, এটা প্রহসনে পরিণত হয়েছে।’’ মুখ্যমন্ত্রীর ভোটকেন্দ্রের প্রসঙ্গ তুলেও অভিযোগ করেন তিনি। সেখানে বুথের ভিতরে গেরুয়া পোশাক ও ফেট্টি পরা লোকজন বসেছিলেন বলে দাবি তাঁর।

কংগ্রেসের দাবি, এখনও পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের কাছে মোট ২৪টি অভিযোগ জানানো হয়েছে। কিন্তু কোনও অভিযোগেরই যথাযথ উত্তর বা কার্যকর ব্যবস্থা মেলেনি। এবার কমিশনের কাছে চূড়ান্ত চিঠি দিয়ে রেজিনগর ও নন্দীগ্রাম—দুই কেন্দ্রের নির্বাচন বাতিল করে সমস্ত বুথে পুনর্নির্বাচনের দাবি জানাবে দল।

নন্দীগ্রাম থানার পুলিশের বিরুদ্ধে কংগ্রেস কর্মী ও ভোটারদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ সংক্রান্ত একটি অডিয়ো প্রকাশ্যে আসার দাবিও করেন শুভঙ্কর। পাশাপাশি ভোটের পর ইভিএম বদলের আশঙ্কা প্রকাশ করে সমস্ত ইভিএম ও নির্বাচনী সামগ্রী কড়া নিরাপত্তায় সংরক্ষণের দাবি জানান তিনি।

নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর আগের জয় নিয়েও প্রশ্ন তোলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি। তাঁর দাবি, আগের নির্বাচনগুলিও নিরপেক্ষ ছিল না। নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েও সরাসরি প্রশ্ন তুলে শুভঙ্কর বলেন, ‘‘জ্ঞানেশ কুমার ও তাঁর টিম যতদিন দায়িত্বে থাকবেন, ততদিন নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাবে।’’

এরপর শুভঙ্কর সরকারের নেতৃত্বে প্রদেশ কংগ্রেসের একটি প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশনের দফতরে যায়। সেখানে কমিশনের কাছে রেজিনগর ও নন্দীগ্রামের উপ-নির্বাচন বাতিল করে ফের ভোট নেওয়ার দাবি জানানো হয়। কমিশনকে দেওয়া চিঠিতে কংগ্রেসের অভিযোগ, ভোট চলাকালীন দুই কেন্দ্রেই ব্যাপক অনিয়ম ও আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটেছে। এর ফলে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট হয়েছে।

কমিশনের দফতরের বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েও একই অভিযোগ করেন শুভঙ্কর। তাঁর দাবি, বিজেপির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা ভোটগ্রহণে হস্তক্ষেপ করেছে, কংগ্রেসের পোলিং এজেন্টদের কাজে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং ভোটারদের হুমকি দিয়ে ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়া হয়েছে। ভুয়ো ভোট, ভোটার স্লিপ ছিনিয়ে নেওয়া-সহ একাধিক অনিয়মের অভিযোগও তোলেন তিনি।

সাধারণ পর্যবেক্ষক, পুলিশ পর্যবেক্ষক এবং রিটার্নিং অফিসারের কাছে বারবার অভিযোগ জানানো হলেও সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ করা হয়নি বলে অভিযোগ কংগ্রেসের। কেন্দ্রীয় বাহিনী ও স্থানীয় পুলিশও হিংসা প্রতিরোধে ব্যর্থ হয়েছে বলে দাবি দলের।

পোলিং এজেন্টদের অনুপস্থিতিতে ইভিএম সিল করার সময় কারচুপি বা হ্যাকিংয়ের আশঙ্কাও প্রকাশ করেছে কংগ্রেস। দলের দাবি, দুই কেন্দ্রের সমস্ত বুথের সিসিটিভি ও ওয়েবকাস্টিং ফুটেজ, প্রিসাইডিং অফিসারের ডায়েরি এবং ১৭-সিরিজের ফর্ম দ্রুত সংরক্ষণ করে পরীক্ষা করতে হবে। পাশাপাশি সাধারণ ও পুলিশ পর্যবেক্ষকদের কথিত নিষ্ক্রিয়তার পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিও জানিয়েছে প্রদেশ কংগ্রেস।


Share