Election Commission

সিইও দফতরের সামনে সংঘর্ষের পর কড়া নিরাপত্তা, রাতের জমায়েত নিয়ে কড়া বার্তা কমিশনের

মঙ্গলবার শুভেন্দু অধিকারী আসার পরেই হঠাৎই তৃণমূল পন্থী বিএলওরা সিইও দফতরের সামনে আসে। তাঁরা অভিযোগ করেন বেশ কয়েকজন ব্যাগভর্তি ফর্ম-৬ নিয়ে সিইও দফতরে জমা করতে আসেন। সেই অভিযোগেই শুরু হয় হইচই। উত্তপ্ত হয়ে ওঠে স্ট্র‍্যান্ড রোড।

সিইও দফতরের সামনে কেন্দ্রীয় বাহিনী
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০১ এপ্রিল ২০২৬ ০৪:১১

সোমবার রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী দফতরে এসেছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে এসেছিলেন তৃণমূল পন্থী বিএলওরা। তারপরেই মঙ্গলবার সিইও দফতরে এসেছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর সঙ্গেও এসেছিলেন বিজেপির কর্মী-সমর্থকেরা। এরপরেই দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে উত্তপ্ত হতে থাকে স্ট্র্যান্ড রোড। তবে বুধবার সকাল থেকে এই চত্বরে তেমন কোনোও জমায়েত চোখে পড়েনি। তবুও পুলিশ এলাকা ঘিরে রেখেছে। সিইও অফিসের বাইরে নিরাপত্তার দুর্গ তৈরি করে রেখেছে পুলিশ। চারিদিকে ব্যারিকেড লাগানো আছে। অন্য দিকে, মঙ্গলবার রাতে ওই এলাকায় কিছু জমায়েত হয়। তা নিয়ে কড়া বার্তা দিল সিইও দফতর।

মঙ্গলবার শুভেন্দু অধিকারী আসার পরেই হঠাৎই তৃণমূল পন্থী বিএলওরা সিইও দফতরের সামনে আসে। তাঁরা অভিযোগ করেন বেশ কয়েকজন ব্যাগভর্তি ফর্ম-৬ নিয়ে সিইও দফতরে জমা করতে আসেন। সেই অভিযোগেই শুরু হয় হইচই। উত্তপ্ত হয়ে ওঠে স্ট্র‍্যান্ড রোড। সিইও অফিসে ফর্ম ৬ জমা করার অভিযোগকে ঘিরে যখন তৃণমূলপন্থী বিএলও-রা বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন, তখন হঠাৎই সেখানে বিজেপি কর্মীরা উপস্থিত হন। দু’পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকে।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ সামলাতে রীতিমতো হিমশিম খেয়ে যায়। দু’পক্ষের মাঝে ব্যারিকেড দিয়ে আটকানোর চেষ্টা করা হয়। সময় যত বাড়তে থাকে উত্তেজনা ততই বাড়তে থাকে। মঙ্গলবার রাত অবধি ওই এলাকায় উত্তেজনা ছিল। তবে বুধবার সকাল থেকে পরিস্থিতি অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী রয়েছে অনেক। নতুন করে যাতে কোনও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে না-পারে, সে দিকে নজর রাখছে পুলিশ।

এই সব পরিস্থিতির পর রাজ্যের সিইও দফতরের তরফে বুধবার এক্স হ্যান্ডলে একটি পোস্ট করা হয়। সেই পোস্টে একটি ভিডিয়ো দিয়ে দাবি সিইও অফিস দাবি করে, মঙ্গলবার গভীর রাতে কিছু গুন্ডাকে সঙ্গে নিয়ে বেলেঘাটার কাউন্সিলর জড়ো হন। তাঁরা স্লোগান দিতে থাকেন। সেই ভিডিয়ো দিয়ে কমিশন জানিয়েছে, কোনও ভাবেই এ ধরনে সমাজবিরোধী কাজ বরদাস্ত করা হবে না। অবাধ এবং সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে কমিশন কোনও ফাঁক রাখতে নারাজ। আইন তার নিজস্ব পথে চলবে।

সিইও দফতরের সামনে গন্ডগোলের ঘটনায় মঙ্গলবারই সিইও মনোজ আগরওয়াল জানিয়েছিলেন, পুলিশ কাজ না-করলে নির্বাচন কমিশন পদক্ষেপ করবে। তিনি বলেন, ‘‘এই জায়গায় ১৬৩ ধারা জারি করেছেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার। তাই এই জায়গায় কোনও গন্ডগোল হলে, তাঁর দায়িত্ব পরিস্থিতি সামলানো। তাই পুলিশকে দায়িত্ব পালন করতে দিতে হবে। তারা যদি না পারে কমিশন পদক্ষেপ করবে।’’ রাতে কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ সিইও অফিসে যান। তবে বুধবার সকাল থেকেই স্ট্র‍্যান্ড রোডের সিইও দফতর সামনে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানোর কাজ শুরু হয়েছে৷ এর মাধ্যমে সবদিকে নজর রাখা যাবে। 


Share