Suvendu Adhikari

ডুবে গেল ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’, এক লক্ষ ভোটে জিতল বিজেপি প্রার্থী, অভিষেককে কটাক্ষ মুখ্যমন্ত্রীর

বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পন্ডা পেয়েছেন পেয়েছেন এক লক্ষ ন’হাজার ২১ ভোট। দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে সিপিএম। সিপিএম প্রার্থী পেয়েছেন ৪০ হাজার ভোট। ভরাডুবির পরে তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান আগেই ঘোষণা করেছিলেন যে তিনি ভোটে লড়বেন না।

রাজ্যের নয়া মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৪ মে ২০২৬ ০৯:০২

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ডায়মন্ড হারবার’ মডেল পরিণত হল ‘তৃণমূলের হার-বার’ মডেলে। ফলতার পুননির্বাচনের তৃণমূলকে কার্যত দুরমুশ করে দিল বিজেপি। এক লক্ষের বেশি ভোটে বিজেপি প্রার্থী জয়লাভ করেছেন। তার পরেই সমাজমাধ্যমে পোষ্ট করে তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করেছেন রাজ‍্যের মুখ‍্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কথায়, তৃণমূল একটি নীতি-আদর্শহীন দল। তৃণমূল মাফিয়া কোম্পানিতে রূপান্তরিত হয়েছিল। ক্ষমতা থেকে চলে যেতেই কঙ্কালসার দশা উন্মোচিত হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “তৃণমূল রাষ্ট্রীয় শক্তির অপব্যবহার করেছে। তা ব‍্যবহার করে সরকারি সম্পদ লুঠ, মানুষের কষ্টার্জিত অর্থ তোলাবাজি, সিন্ডিকেট ও থ্রেট কালচারের মাধ্যমে কেড়ে নিয়ে এই দলের নেতারা ধরাকে সরা জ্ঞান করেছিল।”

তিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে বলেন, “‘ডায়মন্ড হারবার’ মডেল পরিণত হল ‘তৃণমূলের হার-বার’ মডেলে।” মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য, “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্যারাসুটে নেমে ‘সেনাপতি’ আখ্যা পাওয়া একটি জালিয়াত। এমন কোনও অপরাধ নেই যা তিনি সংগঠিত করেনি। এমনকী, নিজের অপরাধ সিন্ডিকেটকে প্রতিষ্ঠিত করতে গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ করতেও কোনও কসুর করেনি।”

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘বাঘের ছাল পরিহিত বেড়াল’ বলে কটাক্ষ করেছেন। তিনি বলেন, “বিগত সমস্ত নির্বাচনকে পরিহাসে পরিণত করেছেন। এই বিধানসভা ক্ষেত্রে দেড় লাখ ভোটের লিড নিয়েছিল তৃণমূল। ১৫ বছর পরে যখন মানুষ নিজের ভোট নিজে দিয়েছে। তার ফলে মানুষ স্বাধীনতা ফিরে পেয়েছে। তখনই আসল বাস্তব প্রকাশিত হল।”

বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পন্ডা পেয়েছেন পেয়েছেন এক লক্ষ ন’হাজার ২১ ভোট। দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে সিপিএম। সিপিএম প্রার্থী পেয়েছেন ৪০ হাজার ভোট। ভরাডুবির পরে তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান আগেই ঘোষণা করেছিলেন যে তিনি ভোটে লড়বেন না। তবে তিনি ভোট পেয়েছেন মাত্র সাত হাজারের একটু বেশি ভোট। এই কেন্দ্রে ৭১ শতাংশ হিন্দু ভোটার রয়েছে। হিন্দু ভোট গোটাটাই বিজেপির বাক্সে গিয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। মুসলিম ভোটের সিংহভাগই গিয়েছে সিপিএমেরর বাক্সে। কিছুটা গিয়েছে কংগ্রেসে।

রাজ‍্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আরও বলেন, “এ তো সবে শুরু, প্রত্যাখ্যানের দীর্ঘ যাত্রা এ বার তৃণমূলকে অতিক্রম করতে হবে। আগামী দিনে তৃণমূলের নেতৃত্বের সামনে নির্বাচনে ‘নোটা’-র বিরুদ্ধে কঠিন লড়াই অপেক্ষা করছে।” মুখ্যমন্ত্রী কটাক্ষ করে এ-ও বলেন, “‘সর্বভারতীয়’ তৃণমূল কংগ্রেস ইতিমধ্যেই ত্রিপুরার বিধানসভা নির্বাচনে ‘নোটা’-র কাছেও পরাজিত হয়েছে। আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গেও এই জমজমাট লড়াই প্রত্যক্ষ করার অপেক্ষায় রয়েছেন পশ্চিমবঙ্গবাসী।”

ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। গত লোকসভা সাত লক্ষের বেশি ভোটে জয়ী হয়েছিলেন। এই ফলতা বিধানসভা কেন্দ্র থেকে সবচেয়ে বেশি ভোটে লিড পেয়েছেন। ভোটারদের ভোট দিতে বাধা, ইভিএমে সেলোটেপ, আঁতর লাগানো, ছাপ্পা ভোটের অভিযোগ উঠেছিল। এটাকেই ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’ বলে কটাক্ষ করেছিল তৎকালীন বিরোধী দল বিজেপি।

তৃণমূলকে কটাক্ষ করার পাশাপাশি ফলতার মানুষকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি ফলতা বিধানসভা আসনের পুনর্নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির প্রার্থী দেবাংশু পণ্ডাকে বিপুল জনাদেশ দিয়ে বিধানসভায় পাঠানোর জন্য ফলতার জনতা-জনার্দন গণদেবতাকে নত মস্তকে প্রণাম জানাই। ফলতার ভোটারদের কাছে বিশেষ ভাবে কৃতজ্ঞ। বিজেপির প্রার্থীকে এক লক্ষ ভোটে জেতানোর আবেদন করেছিলাম। জয়ের ব্যবধান এক লক্ষ আট হাজার পেরিয়েছে। উন্নয়নের মাধ্যমে আপনাদের এই ঋণ শোধ করব। সোনার ফলতা গড়ার জন্য আমরা দায়বদ্ধ।”


Share