Assembly Election

‘স্ট্রংরুমে কারচুপির চেষ্টা চলছে’, ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের বাইরে অবস্থান তৃণমূলের, যোগ দিতে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা

কুণাল ঘোষ বলেন, “সাড়ে ৩টে পর্যন্ত স্ট্রংরুমে সামনে দলীয় কর্মী-সমর্থকরা ছিলেন। তাঁদের বিকেলের দিকে সরিয়ে দেওয়া হয়। মাঝে আচমকা ইমেল পাঠিয়ে জানানো হয়, বিকেল ৪টের সময় ফের খোলা হবে স্ট্রংরুম।”

ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের বাইরে উত্তেজনা।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ৩০ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:৪৮

তৃণমূল ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের স্ট্রংরুমের ভিতরে ‘সন্দেহজনক গতিবিধির’ অভিযোগ তুলল। দলের দুই প্রার্থী কুণাল ঘোষ এবং শশী পাঁজা বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রর গেটের বাইরে অবস্থানে বসেছেন। সেই অবস্থানে এ বার যোগ দিতে যাচ্ছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতাবন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল সূত্রের খবর এমনটাই জানা গিয়েছে।

তৃণমূল একটি সিসি ক্যামেরার ফুটেজ প্রকাশ করেছে। তাঁদের বক্তব্য, স্ট্রংরুমের মধ্যে সন্দেহজনক গতিবিধি নজরে এসেছে। তৃণমূলের প্রশ্ন, ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের ভিতরে কে বা কারা ঢুকেছেন এবং কী করে ঢুকেছেন। আশঙ্কা প্রকাশ করে তাঁদের দাবি, স্ট্রংরুমে থাকা ইভিএমে কারচুপি হতে পারে। তাই কে ঢুকছেন তা নির্বাচন কমিশনকে জানাতে হবে। এলাকায় নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। গোলমালের আশঙ্কায় অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

ইভিএমে কারচুপির অভিযোগ তুলে ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের বাইরে অবস্থান বিক্ষোভে বসে পড়েছেন বেলেঘাটার তৃণমূল প্রার্থী কুণাল এবং শ্যামপুকুরের তৃণমূল প্রার্থী শশীর। ভিতরে ঢোকার সময় বিজেপির কর্মীদের সঙ্গেও ধস্তাধস্তি হয়। বিজেপি কর্মীদের দেখে ‘ইভিএম চোর’ বলেও স্লোগান ওঠে। এ বার সেই বিক্ষোভে যোগ দিতে যাচ্ছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

তৃণমূল প্রার্থী কুণাল বলেন, “সাড়ে ৩টে পর্যন্ত স্ট্রংরুমে সামনে দলীয় কর্মী-সমর্থকরা ছিলেন। তাঁদেরকে বিকেলের দিকে সরিয়ে দেওয়া হয়। মাঝে আচমকা ইমেল পাঠিয়ে জানানো হয়, বিকেল ৪টের সময় ফের স্ট্রংরুম খোলা হবে। আমরা তখন দলীয় কর্মীদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করি। জিজ্ঞেস করি, তোমরা আছ? তাঁরা জানান, চলে গিয়েছেন। তখন আমরা দু’জনে দৌড়ে আসি। এখন আর আমাদের ঢুকতে দিচ্ছে না।”

বৃহস্পতিবার রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের মনোজকুমার আগরওয়াল তৃণমূলের অভিযোগ সম্পর্কে বলেন, “আমার কাছে এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও অভিযোগ জমা পড়েনি। যদি এমন কিছু হয়ে থাকে তবে বিষয়টি উত্তর কলকাতার জেলা নির্বাচনী আধিকারিক দেখবেন।” এর পরেই সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনারা চাইলে গিয়ে পরিস্থিতি দেখে আসতে পারেন।”

উত্তর কলকাতার জেলা নির্বাচনী আধিকারিক স্মীতা পান্ডে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন। তিনি পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছেন। কুনাল আরও বলেল, “ইমেল পাঠানোর মানে কি! আমরাও জানি না, সেখানে কী কাজ হচ্ছে। জায়গাটা অন্ধকার। কমিশন কথা দিয়েছে, সেখানে সিসি ক্যামেরা বসানো হবে। সেই লিঙ্ক সবাইকে দেওয়া হবে। কমিশন এ-ও বলেছে, এমন ঘটনার আর পুনরাবৃত্তি হবে না।”


Share