Assembly Election

কমিশনের সিদ্ধান্তে কোনও ভুল নেই, গণনাকেন্দ্রে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের সুপারভাইজার নিয়োগের তৃণমূলের মামলা খারিজ করল কলকাতা হাই কোর্ট

রাজ‍্যের মুখ‍্য নির্বাচনী আধিকারিকের আইনজীবীর সওয়াল করে বলেন, "কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীরা গণনার টেবিলে বসে রাজনৈতিক দলের কর্মীদের ভয় দেখাবেন, হুমকি দেবেন এইসব অভিযোগ করা হচ্ছে। এর প্রমাণ কোথায়? এই মামলার কোনও আইনি ভিত্তি নেই।"

কলকাতা হাই কোর্ট
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০১ মে ২০২৬ ১২:১৯

কলকাতা হাই কোর্টে আবার ধাক্কা খেল তৃণমূল কংগ্রেস। গণনাকেন্দ্রে সুপারভাইজার কেন কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মীদের নিয়োগ করা হবে তা নিয়ে হাই কোর্টে মামলা করেন তৃণমূল সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। আদালতের পর্যবেক্ষণ, কমিশনের সিদ্ধান্ত বৈধ। এতে কোনও আইনের লঙ্ঘন করা হয়নি। বিচারপতি কৃষ্ণা রাও তৃণমূলের মামলাটি খারিজ করে দিয়েছেন।

প্রত্যেক গণনার টেবিলে কমপক্ষে একজন গণনা সুপারভাইজার বা সহকারী কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী নিয়োগের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে মামলা করেন। তবে কলকাতা হাই কোর্ট কমিশনের এই সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করল না। কলকাতা হাই কোর্ট জানায়, কেন্দ্রীয় কর্মীদের গণনার কাজে নিয়োগের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ বৈধ। বিচারপতি কৃষ্ণ রাও তৃণমূলের মামলা খারিজ করে দেন।

কলকাতা হাই কোর্টের পর্যবেক্ষণ, কমিশনের সিদ্ধান্তে বেআইনি কিছু নেই। মামলাকারীর অভিযোগ প্রমাণহীন। যদি ভবিষ্যতে গণনায় কারচুপি প্রমাণ হয়, তবে নির্বাচনী হলফনামার মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ করা যাবে। কিন্তু তার আগে কমিশনের সিদ্ধান্তে কোনও রকম হস্তক্ষেপ করবে না কলকাতা হাই কোর্ট।

বৃহস্পতিবার কলকাতা হাই কোর্টের এই মামলার শুনানিতে কার্যত দুই আইনজীবীর মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। কমিশনের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে উদ্দেশ্য করে বলেন, “আদালতে রাজনৈতিক ভাষণ দেবেন না। আপনার অসহায়তা ও হতাশা প্রকাশ পাচ্ছে।” কমিশনের আইনজীবীকে পাল্টা প্রশ্ন করে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আপনি কি হাইকোর্টের বিচারপতি ছিলেন?”

নির্বাচন কমিশন কলকাতা হাই কোর্টকে জানায়, “বিধি অনুযায়ী আমরা কেন্দ্র বা রাজ্য, যে কোনও জায়গায় কর্মরত কর্মীদের নিয়োগ করতে পারি। কমিশন নিয়ম অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের নিয়োগ করেছে। কমিশন কি আইন বিরুদ্ধ কাজ করেছে ? কাউন্টিং সুপারভাইজার এবং কাউন্টিং অ্যাসিস্ট্যান্টরা কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী বলে তারা অবৈধ বা অনৈতিক কাজ করবেন, এই অভিযোগ একটা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কেন তোলা হবে? শুধুমাত্র আশঙ্কার ভিত্তিতে অভিযোগে তোলা হচ্ছে। কোনও তথ্য প্রমাণ নেই।”

রাজ‍্যের মুখ‍্য নির্বাচনী আধিকারিকের আইনজীবীর সওয়াল করে বলেন, “কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীরা গণনার টেবিলে বসে রাজনৈতিক দলের কর্মীদের ভয় দেখাবেন, হুমকি দেবেন এইসব অভিযোগ করা হচ্ছে। এর প্রমাণ কোথায়? এই মামলার কোনও আইনি ভিত্তি নেই।”

পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের ভোট গণনার আগেই জোড়া মামলা কলকাতা হাই কোর্টে জোড়া মামলা দায়ের হয়েছিল। আইনজীবী ও তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এই মামলা দায়ের করেন। কমিশনের  সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। গণনাকেন্দ্রে সুপারভাইজার হিসাবে শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের কেন নিয়োগ করবে কমিশন তা নিয়ে মামলাটি দায়ের হয়েছিল। কিন্তু এই মামলায় কমিশনের সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করেনি কলকাতা হাই কোর্ট। মামলাটি খারিজ করে দিয়েছে।


Share