By-Election

রেজিনগরে রেকর্ড জয় বিজেপির, ৭২ হাজারেরও বেশি ভোটে জিতে নজির শাখারভের

ফল প্রকাশের পরই তাঁকে ফোন করে শুভেচ্ছা জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। দুই কেন্দ্রের উপনির্বাচনের ফল নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মন্তব্য, “দুই কেন্দ্রেই রাষ্ট্রবাদী শক্তি জিতেছে।”

জয়ী শাখারভ সরকার।
নিজস্ব সংবাদদাতা, রেজিনগর
  • শেষ আপডেট: ০৯ অক্টোবর ২০২৬ ০৪:১৩

রেজিনগরে নজিরবিহীন জয় বিজেপির। উপনির্বাচনে ৭২ হাজার ৭১০ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার। ফল প্রকাশের পরই তাঁকে ফোন করে শুভেচ্ছা জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। দুই কেন্দ্রের উপনির্বাচনের ফল নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মন্তব্য, “দুই কেন্দ্রেই রাষ্ট্রবাদী শক্তি জিতেছে।”

প্রায় ৭২ শতাংশ সংখ্যালঘু অধ্যুষিত রেজিনগরে বিজেপির এই বিপুল জয় রাজনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কে বিজেপির প্রভাব বাড়ার ইঙ্গিত দেখছে গেরুয়া শিবির। রেকর্ড জয়ের পর শাখারভ সরকার জানালেন, সাংগঠনিক শক্তিই তাঁদের সাফল্যের প্রধান কারণ। তাঁর কথায়, “রেজিনগরে শেষ লড়াই লড়তে হল মানবিকতা বনাম অমানবিকতার। ওঁরাও তো ভালো ভোট পেয়েছেন। আমার সংগঠন আমাকে জিতিয়েছে। আমাদের সাংগঠনিক লড়াই আমাদের জিতিয়ে দিয়েছে।”

গণনার শুরু থেকেই রেজিনগরে এগিয়ে ছিলেন বিজেপি প্রার্থী। পঞ্চম রাউন্ডের গণনা শেষে শাখারভ সরকারের ব্যবধান দাঁড়িয়েছিল ২৩ হাজার ১৮৯ ভোটে। শেষ পর্যন্ত সেই ব্যবধান আরও বাড়িয়ে ৭২ হাজার ৭১০ ভোটে জয় ছিনিয়ে নেন তিনি। রেজিনগরে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে হুমায়ুন কবীরের দল আমজনতা উন্নয়ন পার্টি (এজেইউপি)। তৃতীয় স্থানে কংগ্রেস, চতুর্থ স্থানে তৃণমূল কংগ্রেস, পঞ্চম স্থানে সিপিএম এবং ষষ্ঠ স্থানে গণতান্ত্রিক তৃণমূল।

অন্য দিকে, নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনেও বিজেপির দাপট দেখা গিয়েছে। পঞ্চম রাউন্ডের গণনা শেষে বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ ৪১ হাজার ৫০০ ভোটে এগিয়ে ছিলেন। সেখানে দ্বিতীয় স্থানে কংগ্রেস, তৃতীয় স্থানে সিপিএম, চতুর্থ স্থানে আইএসএফ এবং পঞ্চম স্থানে গণতান্ত্রিক তৃণমূল।

রেজিনগরে দ্বিতীয় স্থানে এজেইউপির উঠে আসাও রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিরোধীদের একাংশের তরফে রিগিং ও সন্ত্রাসের অভিযোগ উঠলেও, রেজিনগরের ফলাফল নিয়ে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। বিশেষ করে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এই কেন্দ্রে বিজেপির বিপুল জয় ঘিরে ভোটের সমীকরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

এই জয়ের রহস্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে শাখারভ সরকার অবশ্য ধর্মীয় পরিচয়ের বদলে উন্নয়নকেই গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, “সংখ্যালঘু, সংখ্যাগুরু, এ সব কথা বলবেন না। এসব শুনে বাংলার মানুষ ক্লান্ত হয়ে গিয়েছে। বাংলায় এখন একটাই ক্যাসেট বাজবে, এখানে উন্নয়ন চাই, রেজিনগরে কলেজ চাই, শিল্প চাই।”

এরপরই সংখ্যালঘু ভোটের প্রসঙ্গ টেনে বিজেপি প্রার্থীর দাবি, সময়ের সঙ্গে রাজনৈতিক দলের প্রতি মানুষের সমর্থন বদলেছে। তাঁর কথায়, কংগ্রেসের আমলে সংখ্যালঘুরা কংগ্রেসের পাশে ছিলেন, বাম আমলে বামেদের সমর্থন করেছেন এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনকালে তৃণমূলকে ভোট দিয়েছেন। বর্তমানে শুভেন্দু অধিকারীর সরকারের আমলে উন্নয়নের স্বার্থে সংখ্যালঘুরা বিজেপিকে সমর্থন করেছেন বলেই দাবি শাখারভের।

রেজিনগরের এই ফল আগামী দিনে রাজ্যের রাজনীতিতে সংখ্যালঘু ভোটের সমীকরণে কতটা প্রভাব ফেলবে, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।


Share