Assembly Election

‘আর রাজনীতি করব না’ বিধানসভা নির্বাচনের টিকিট না পেয়ে বেসুরো চুঁচুড়ার প্রবীণ তৃণমূল নেতা অসিত মজুমদার

অসিত বলেন, “আমাদের বিজেপির বিরুদ্ধেই লড়াই। দল মনে করেছে দেবাংশু বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারবে। দল মনে করেছে আমাদের চাইতে দেবাংশু শক্তিশালী প্রার্থী। তাই দলনেত্রী (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) ওঁর নামেই ভেবেছেন।”

(বাঁ দিক থেকে) অসিত মজুমদার এবং দেবাংশু ভট্টাচার্য।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৭ মার্চ ২০২৬ ১১:০২

মঙ্গলবার বিকেলে বিধানসভা নির্বাচনের প্রার্থিতালিকা ঘোষণা করেছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তালিকায় নাম নেই তিন বারের বিধায়ক অসিত মজুমদারের। তাঁর জায়গায় চুঁচুড়ায় প্রার্থী করা হয়েছে তৃণমূলের আইটি সেলের দেবাংশু ভট্টাচার্যকে। প্রার্থিতালিকা ঘোষণার পরেই সাংবাদিক বৈঠক করে অসিত জানিয়ে দিলেন, তিনি এ বার থেকে আর রাজনীতি করবেন না। তাঁর পুরোনো পেশায় ফিরতে যেতে চান। তবে তিনি এ-ও জানিয়েছেন, তিনি এখনও তৃনমূলেই আছেন। তাই দলের যা সিদ্ধান্ত সেটা তাঁরও সিদ্ধান্ত।

তৃণমূলের প্রার্থিতালিকায় নাম না থাকায় কার্যত অভিমানের সুর শোনা গিয়েছে চুঁচুড়ার বিদায়ী তৃণমূল বিধায়ক অসিত মজুমদারের গলায়। সেখানে দেবাংশুকে প্রার্থী করায় তিনি অবসরে সময় কীভাবে কাটাবেন? সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলছেন, “বই আছে। ক্লাব আছে। মাঠ আছে। আমাদের সুইমিং ক্লাব আছে। ক্লাব করব। মাঠ করব। বই পড়ব। আমি একেবারেই বেকার হয়ে যাব না। যদি মনে করি, আবার আদালতে যাব। সেখানে প্রাকটিস করব। আইনের সার্টিফিকেট আছে। বার কাউন্সিলের লাইসেন্স আছে। আদালতেই নেমে যাব।” এর পরেই অসিত আবেগপ্রবণ হয়ে বলেন, “ নাহ, রাজনীতি করব না। রাজনীতি আর করব না। রাজনীতি থেকে বিশ্রাম নিলাম।” তাঁকে যদি দল নির্বাচনে আবার কাজ করতে বলে তাহলে তিনি কি করবেন? সেই উত্তরে অসিত বলেন, “দল কাজ করতে বললেই কাজ করতে হবে নাকি! আমি কি ঠিকা-চাকর নাকি?” তবে দেবাংশু ভট্টাচার্যের আদৌ প্রচারে থাকবেন কি না তা স্পষ্ট করেননি তিনি। শুধু বলেছেন, “দেবাংশু এলে ভাবব।”

মঙ্গলবার অসিত বলেন, “আমাদের বিজেপির বিরুদ্ধেই লড়াই। দল মনে করেছে দেবাংশু বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারবে। দল মনে করেছে আমাদের চাইতে দেবাংশু শক্তিশালী প্রার্থী। তাই দলনেত্রী (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) ওঁর নামেই ভেবেছেন।” তিনি এ-ও জানান, “যেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সেখানে আমরা চুনোপুটি লোক। দেবাংশুর সঙ্গে কথা হয়নি। কথা বলারও কিছু নেই।”

বিদায়ী বিধায়ক অসিত মনে করেন, তিনি চুঁচুড়া বিধানসভা আসনের জন‍্য ‘যোগ‍্য প্রার্থী’। কিন্তু দল তা মনে করেনি। অসিত বলেন, “খামতি নিশ্চয়ই আছে। আমি মনে করছি নেই। কিন্তু ওরা মনে করছে আছে। তিন বার দল আমায় টিকিট দিয়েছে। এ বার কেন দিল না! নিশ্চয়ই কোথাও খামতি রয়েছে। তাই এ বার আর টিকিট দেয়নি।”

একদা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছায়াসঙ্গী অসিত জানান, “দল আমাকে অনেক দিয়েছে। কতটুকু আমার ক্ষমতা! যোগ‍্যতার বাইরে গিয়ে দল আমায় দিয়েছে। তাই দলকে ধন্যবাদ। অভিষেক এবং দিদি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) মনে করেছেন, আমার থেকে দেবাংশুর ভালো। এখানে আবেগপ্রবণ হওয়ার প্রশ্ন নেই। কর্মীদের কান্নাকাটি করাটাই স্বাভাবিক। আমি বড় তাই ওরা আমার কাছে এসেছে। তবে এটা সাময়িক। একটু কষ্ট হচ্ছে। এর থেকে বেশি কিছু বলব না।”

হুগলির চুঁচুড়ায় সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলেরই একাংশের অভিযোগ, তিনি ‘বহিরাগত’। দেবাংশু ভট্টাচার্যকেও তাঁরা ‘বহিরাগত’ বলে কটাক্ষ করছে। কিন্তু অসিত মজুমদার আপনি হুগলির বাসিন্দা। এই প্রসঙ্গে অসিত বলেন, “আমি তো দলের লোক। আমাদের নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁরা যদি মনে করেন, বাইরের লোক এনে উপকার বেশি হবে.. উপকার তো পেয়েছে। রচনাকে এনে এই আসনটি জিতেছে। এ বার দেবাংশু এসেছে। সে-ও জিতবে। এতে অসুবিধা কী আছে?”

অসিত মজুমদার আরও বলেন, “দল যদি বলে প্রচার করব। আমার কাছে দলই সব। এখনও দল করি। তাই দলের সিদ্ধান্ত আমার সিদ্ধান্ত। যখন আমি বলব, ‘দল আর করছি না’, তখন অন‍্য কথা বলব।”

প্রার্থিতালিকা প্রকাশের বিদায়ী বিধায়কের এমন মন্তব্য নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে।


Share