মালদহের বিডিও অফিসের বাইরে তৃণমূল কর্মীদের বিক্ষোভ, আটকে বিচারবিভাগীয় আধিকারিকেরা, পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে পুলিশ

বিডিও অফিসের দু’টি গেটের বাইরে মহিলা তৃণমূল কর্মীরা বসে রয়েছেন। সূত্রের খবর, গত ২৩ মার্চ এই বিচারকদের মধ্যে কয়েক জন নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে চিঠি দিয়েছিলেন।

বিডিও অফিসের বাইরে জমায়েত।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কালিয়াচক
  • শেষ আপডেট: ০২ এপ্রিল ২০২৬ ১২:৩৭

মালদহের কালিয়াচকের ব্লক উন্নয়ন আধিকারিকের দফতরে বাইরে বিক্ষোভ চলছে। ভোটার তালিকা থেকে কেন নাম বাদ দেওয়া হয়েছে তা নিয়ে বিক্ষোভ দেখানো হচ্ছে। সেখানে সাত জন বিচারবিভাগীয় আধিকারিক আটকে রয়েছেন। ১২ ঘন্টার বেশি সময় কেটে গেলেও বিক্ষোভ হটাতে ব‍্যর্থ পুলিশ। ঘটনাস্থলে যাচ্ছেন ডিআইজি। নির্বাচন কমিশন রিপোর্ট তলব করেছে।

কালিয়াচক-২ ব্লকে বিচারাধীন ভোটারদের নথি নিস্পত্তির কাজ করছেন সাত জন বিচারবিভাগীয় আধিকারিক। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে তাঁরা এই কাজের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল তাঁদের এই কাজে নিযুক্ত করছেন। কিন্তু তাঁদের কাজেও অসন্তোষ প্রকাশ করছে বিক্ষোভকারীরা। স্থানীয় সূত্রের খবর, বিক্ষোভকারীদের একটি বড় অংশ তৃণমূলের সঙ্গে জড়িত। 

এ দিন সকালে সাত জন বিচারবিভাগীয় আধিকারিক সেখানে নথি নিস্পত্তির কাজের জন‍্য আসেন। বিডিও অফিসের বাইরে দুপুর থেকেই জমায়েত শুরু হয়। বিকেলে তাঁরা বাইরে বেরোতে গেলে তাঁরা বেরোতে পারেননি। ভিতরেই আটকে পড়েন। সাত জনের মধ্যে তিন জন মহিলা বিচারক রয়েছেন। একই সঙ্গে সুজাপুরের ১২ নম্বর জাতীয় সড়কেও বিক্ষোভকারীরা অবস্থান করছে।

বিডিও অফিসের দু’টি গেটের বাইরে মহিলা তৃণমূল কর্মীরা বসে রয়েছেন। সূত্রের খবর, গত ২৩ মার্চ এই বিচারকদের মধ্যে কয়েক জন নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে চিঠি দিয়েছিলেন। তাঁরা দাবি করেছিলেন, বিডিও অফিস থেকে এই নথি নিস্পত্তির কাজ জেলাশাসকের দফতরে স্থানান্তরিত করা হোক। তাঁদের আশঙ্কাই এ বার সত্যি হল। 

এতক্ষণ ধরে বিচারবিভাগীয় আধিকারিকেরা কী ভাবে বিডিও আটকে পড়লেন তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। ‍ওই এলাকায় এমন ঘটনা যে ঘটতে পারে তার কোনও খবর কি পুলিশের কাছে ছিল না, তা-ও অনেক বলছেন। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বললেও তা বারবার ব‍্যার্থ হয়ে যাচ্ছে। তাঁদের দাবি, ট্রাইবুনাল নয়। তাঁদের সমস‍্যা চটজলদি সমাধান করতে হবে। না হলে ভোট হবে না। ঘটনায় রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেছে নির্বাচন কমিশন।

বিজেপির অভিযোগ, “রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভেঙে পড়েছে। মুখ্যমন্ত্রী যেখানে কেন্দ্রীয় বাহিনী দেখলে তাঁদের মারধর করার নিদান দেন। সেখানে এমন পরিস্থিতি তৈরি হবেই।” বিজেপি ক্ষমতায় এলে এ সব বন্ধ করা হবে। পাল্টা তৃণমূলের দাবি, “রাজ‍্যে আইপিএস এবং আইএএস অফিসারদের বদলি করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশন বুঝুক কী করবে। তবে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটুক, এটাই কাম্য।”


Share