Assembly Election

বিজেপিকে ভোট দেওয়ায় বাড়িতে ঢুকে হুমকির অভিযোগ জাহাঙ্গিরের দলবলের বিরুদ্ধে, রিপোর্ট তলব নির্বাচন কমিশনের

এদিকে ফলতার অশান্তি এবং বিজেপি কর্মীদের উপর হামলার অভিযোগে নির্বাচন কমিশন রিপোর্ট তলব করেছে।

ফলতায় অশান্তি
নিজস্ব সংবাদদাতা, ফলতা
  • শেষ আপডেট: ০২ মে ২০২৬ ০৬:৩১

ডায়মন্ড হারবার ও মগরাহাট পশ্চিমের ১৫টি বুথে শনিবার পুনর্নির্বাচন হলেও তালিকায় জায়গা হয়নি দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভার। অথচ সকাল থেকেই সেখানে দফায় দফায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে। গ্রামবাসীদের একাংশের অভিযোগ, বিজেপিকে ভোট দেওয়ার কারণে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি দিচ্ছে। এই ঘটনায় নাম জড়িয়েছে ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের।

অভিযোগ, জাহাঙ্গির-ঘনিষ্ঠ গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান ইসরাফিল সর্দারের দলবল এই হুমকি দিচ্ছে। এর প্রতিবাদে শনিবার ১৭ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে গ্রামবাসীদের একাংশ বিক্ষোভ দেখান। তাঁদের দাবি, অবিলম্বে ইসরাফিলের গ্রেফতারি এবং ফলতায় পুনর্নির্বাচনের ঘোষণা করতে হবে। কেউ কেউ আবার জাহাঙ্গির খানের গ্রেফতারির দাবিও তুলেছেন। এদিকে ফলতার অশান্তি এবং বিজেপি কর্মীদের উপর হামলার অভিযোগে নির্বাচন কমিশন রিপোর্ট তলব করেছে।

শুক্রবার থেকেই ফলতার হাসিমনগর এলাকায় উত্তেজনা চরমে ওঠে। বিজেপি কর্মীদের মারধরের অভিযোগে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। শনিবারও একই এলাকায় ফের উত্তেজনা ছড়ায়। স্থানীয় বাসিন্দা ও বিজেপি কর্মীদের অভিযোগ, তাঁদের ভোট দিতে বাধা দেওয়া হয়। প্রতিবাদ করতেই তৃণমূলের পঞ্চায়েত প্রধানের নেতৃত্বে হামলা চালানো হয় এবং বহু কর্মী-সমর্থককে মারধর করা হয়। শুক্রবারও তাঁরা জাতীয় সড়ক অবরোধ করেছিলেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে যান ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয়পাল শর্মা। মোতায়েন করা হয় ফলতা থানার পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। তবুও শনিবার নতুন করে উত্তেজনা ছড়ায়। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, রাজ্য পুলিশ কার্যত নিষ্ক্রিয়। এক বিক্ষোভকারীর দাবি, বাড়িতে ঢুকে মারধর করা হয়েছে, এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। তাঁরা ইসরাফিলের গ্রেফতারি চায়। ফলতার দু’টি বুথে পুনর্নির্বাচন চায়।

যদিও পুলিশের তরফে লাঠিচার্জের অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। এক পুলিশ আধিকারিক জানান, এমন কোনও ঘটনা ঘটেনি।

দ্বিতীয় দফার ভোটের শুরু থেকেই ফলতা ছিল অশান্ত। ভোটের দিনও সেখানে নানা অভিযোগ সামনে আসে। একাধিক বুথে ইভিএম কারচুপির অভিযোগ ওঠে। বিশেষ করে ১৭০ ও ১৮৯ নম্বর বুথে ইভিএমে ‘টেপ’ লাগানোর অভিযোগ ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়। বিরোধীরা মোট ৩২টি বুথে পুনর্নির্বাচনের দাবি তোলে।

এই প্রেক্ষিতে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার পশ্চিমবঙ্গের বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্তকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেন। সূত্রের খবর, পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে তিনি ফলতার প্রায় ৩০টি বুথে পুনর্নির্বাচনের সুপারিশ করে রিপোর্ট পাঠিয়েছেন। তবে এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি নির্বাচন কমিশন।


Share