Jadavpur University

রাজ‍্যের স্কানারে যাদবপুরে পিএইচডিতে ভর্তি, বিশ্ববিদ‍্যালয়ের কাছ থেকে গত ১০ বছরের তথ‍্য-সহ পরিসংখ‍্যান চাইল উচ্চশিক্ষা দফতর

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে পিএইচডি ভর্তির প্রক্রিয়া, কোন পরীক্ষার মাধ্যমে পড়ুয়া বাছাই করা হয়েছে এবং সেই সংক্রান্ত তথ্য দফতরের কাছে জমা দিতে বলা হয়েছে।

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:৫৮

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি-তে গত ১০ বছরে কী ভাবে পড়ুয়াদের ভর্তি করা হয়েছে, এ বার সেই সংক্রান্ত যাবতীয় নথি চেয়ে পাঠাল রাজ্যের উচ্চশিক্ষা দফতর। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে পিএইচডি ভর্তির প্রক্রিয়া, কোন পরীক্ষার মাধ্যমে পড়ুয়া বাছাই করা হয়েছে এবং সেই সংক্রান্ত তথ্য দফতরের কাছে জমা দিতে বলা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারই ওই তথ্য পাঠাবেন বলে জানিয়েছেন উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য।

উপাচার্য বলেন, "বিভিন্ন বিভাগে কী ভাবে পিএইচডি-তে ভর্তি হয়েছে, সেই সংক্রান্ত নথি চেয়েছে দফতর। রেজিস্ট্রার বিস্তারিত তথ্য পাঠাবেন। দফতর তাদের মতামত জানাক। তার পর পিএইচডি ভর্তি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কী পদক্ষেপ করবে, তা ঠিক করা হবে।" এর আগে গত ৫ অগস্ট উচ্চশিক্ষা দফতর রাজ্যের সাহায্যপ্রাপ্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে পিএইচডি ভর্তির ক্ষেত্রে নিজস্ব রিসার্চ এন্ট্রান্স টেস্ট বন্ধ করার জন্য নির্দেশ দিয়েছিল। ইউজিসি-নেট, ইউজিসি-সিএসআইআর নেট, গেট বা এই ধরনের সর্বভারতীয় স্তরের পরীক্ষার নম্বরের ভিত্তিতে প্রার্থী বাছাই এবং তার পর সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কথা বলা হয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে পিএইচডি অ্যাডমিশন টেস্ট না নেওয়ার জন্যও ‘অনুরোধ’ করা হয়েছিল। এর মধ্যেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি ভর্তিতে অনিয়মের অভিযোগ তুলে তদন্তের দাবি করেছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ-ঘনিষ্ঠ শিক্ষক সংগঠন অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসঙ্ঘ। গত সপ্তাহে সংগঠনের তরফে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে চিঠি দিয়ে পিএইচডি ভর্তির অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখতে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার মাধ্যমে তদন্তের দাবি জানানো হয়।

এবিআরএসএম-এর সভাপতি ভাস্কর সর্দারের অভিযোগ, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি (জুটার) একটি অংশ পিএইচডি-র ভর্তি পরীক্ষায় কারচুপি করে বামপন্থী সমর্থকদের সুবিধা করে দিয়েছে। তাঁর দাবি, এর মাধ্যমে একটি ‘ভর্তি চক্র’ চালানো হচ্ছিল। যদিও এই অভিযোগের স্বাধীন ভাবে কোনও প্রমাণ এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের এবিভিপি ইউনিটের সভাপতি নিখিল দাসের দাবি, রেট পরিচালনায় অনিয়মের অভিযোগের বিষয়টি আরএসএস-ঘনিষ্ঠ শিক্ষক সংগঠনের তরফে উচ্চশিক্ষা দফতরকে জানানো হয়েছিল।

উচ্চশিক্ষা দফতরের এক আধিকারিকের বক্তব্য, পিএইচডি ভর্তিতে ইউজিসি-নেট, ইউজিসি-সিএসআইআর নেট, গেটের মতো সর্বভারতীয় পরীক্ষার নম্বর ব্যবহার করে তার পর সাক্ষাৎকার নেওয়ার সুযোগ বিশ্ববিদ্যালয়গুলির ছিল। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্ব ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে পড়ুয়া ভর্তি করেছে। সেই পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপক তথা জুটার সদস্যের দাবি, সব বিষয়ে নেট পরীক্ষা হয় না। ন্যানোসায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, ইনস্ট্রুমেন্টেশন সায়েন্সের মতো বিষয়ে ইউজিসি-নেট না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়কে নিজস্ব রেট নিতে হয়। একই ভাবে মানববিদ্যার ফিল্ম স্টাডিজের মতো বিষয়েও নেট পরীক্ষা নেই। তাঁর বক্তব্য, ২০২২ সালের ইউজিসি-র নিয়ম মেনেই ওই বিষয়গুলিতে রেট নেওয়া হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, উচ্চশিক্ষা দফতরের নতুন নির্দেশিকার ফলে পিএইচডি ভর্তির ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বশাসনে হস্তক্ষেপ হচ্ছে। এখন উচ্চশিক্ষা দফতরের চাওয়া গত ১০ বছরের নথি খতিয়ে দেখার পর কী মতামত দেওয়া হয় এবং তার ভিত্তিতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় পিএইচডি ভর্তি নিয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয়, সে দিকেই নজর সংশ্লিষ্ট মহলের।


Share