Market Index

সপ্তাহের প্রথমেই শেয়ারবাজারে রক্তক্ষরণ, একদিনে বিনিয়োগকারীদের ক্ষতি পাঁচ লক্ষ কোটি টাকার বেশি, সূচকের পতন হল ১,১২৮

বাজার খোলার পর থেকেই শুরু হয় ব্যাপক বিক্রি। দিন শেষে ১,১২৪.০২ পয়েন্ট বা ১.৫২ শতাংশ পড়ে সেনসেক্স দাঁড়ায় ৭২,৭৭১.৭২ পয়েন্টে। একই ভাবে ৩৬০.২৫ পয়েন্ট বা ১.৫৬ শতাংশ পতনের পর নিফটি-৫০ থামে ২২,৭৮০.২৫ পয়েন্টে।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৭:১৩

সপ্তাহের প্রথম কাজের দিনেই বড়সড় ধস নামল ভারতীয় শেয়ারবাজারে। সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, টানা সাত সপ্তাহের পতনের ধারা অব্যাহত রেখে ছ’মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরে পৌঁছল বাজারের প্রধান সূচকগুলি। দিনের শেষে বিনিয়োগকারীদের মোট সম্পদের পরিমাণ পাঁচ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি কমেছে।

বাজার খোলার পর থেকেই শুরু হয় ব্যাপক বিক্রি। দিন শেষে ১,১২৪.০২ পয়েন্ট বা ১.৫২ শতাংশ পড়ে সেনসেক্স দাঁড়ায় ৭২,৭৭১.৭২ পয়েন্টে। একই ভাবে ৩৬০.২৫ পয়েন্ট বা ১.৫৬ শতাংশ পতনের পর নিফটি-৫০ থামে ২২,৭৮০.২৫ পয়েন্টে।

শুধু বড় সংস্থার শেয়ারই নয়, মিডক্যাপ ও স্মলক্যাপ সূচকেও দেখা গিয়েছে ব্যাপক পতন। ব্রোকারেজ সংস্থাগুলির তথ্য অনুযায়ী, সোমবার নিফটি মিডক্যাপ সূচক কমেছে ১.৬ শতাংশ এবং নিফটি স্মলক্যাপ সূচক পড়েছে ১.৮ শতাংশ।

এদিন নিফটিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে জ়িয়ো ফিন্যান্সশিয়াল, টাটা মোটরস প্যাসেঞ্জার ভেহিকেলস, লার্সেন অ্যান্ড টুব্রো, আদানি এন্টারপ্রাইজেস এবং আদানি পোর্টসের মতো সংস্থার শেয়ার। তবে পতনের বাজারেও কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে টেক মাহিন্দ্রা, ডক্টর রেড্ডিস ল্যাবরেটরিজ এবং ইনফোসিস।

বাজারের প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রেই এদিন লাল দাগ দেখা গিয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের সূচক প্রায় ৩ শতাংশ এবং টেলিকম সূচক ২.৩ শতাংশ কমেছে। পাশাপাশি জ্বালানি, পরিকাঠামো, ভোগ্যপণ্য, রিয়েল এস্টেট, বেসরকারি ব্যাঙ্ক, ধাতু এবং তেল-গ্যাস ক্ষেত্রেও পতন হয়েছে।

এদিন প্রায় ১৯০টি শেয়ারের দর ৫২ সপ্তাহের সর্বনিম্ন স্তরে পৌঁছয়। এই তালিকায় রয়েছে আইআরবি ইনফ্রা, ইন্ডিয়া সিমেন্টস, ব্যাঙ্ক অফ বরোদা, আদিত্য বিড়লা লাইফস্টাইল, টাটা কনজ়িউমার, অম্বুজা সিমেন্ট, সিইএসই, টাটা মোটরস প্যাসেঞ্জার ভেহিকেলস, হিন্দুস্তান ইউনিলিভার এবং জেনারেল ইনস্যুরেন্স।

বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এই পতনের পিছনে একাধিক আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ কারণ রয়েছে। বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের উপরে থাকায় ভারতের আমদানি খরচ বাড়ছে। এর প্রভাব মুদ্রাস্ফীতির উপর পড়তে পারে এবং ডলারের তুলনায় আরও চাপের মুখে পড়তে পারে ভারতীয় মুদ্রা।

এ ছাড়া বিশ্বজুড়ে সরকারি বন্ডের সুদের হার বৃদ্ধিকেও বাজারের পতনের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার জেরে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ভারতীয় বাজার থেকে সরে যাওয়াও পরিস্থিতিকে আরও চাপের মধ্যে ফেলছে।

ব্যাঙ্ক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলির শেয়ারে বড়সড় পতন হওয়ায় বাজারের উদ্বেগ আরও বেড়েছে। ফলে, আগামী দিনে আন্তর্জাতিক বাজারের গতিবিধি, অপরিশোধিত তেলের দাম, মুদ্রাস্ফীতি এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অবস্থানের উপরই ভারতীয় শেয়ারবাজারের গতিপথ অনেকটাই নির্ভর করবে।


Share