UPI

ইউপিআই লেনদেনে আপাতত মাসুল নয়, পিছোল এমডিআর চালুর সময়সীমা

ফলে উৎসবের মরসুমে স্বস্তি পেলেন খুচরো ব্যবসায়ীরা। তবে দীপাবলির পর ঠিক কবে থেকে এই মাসুল চালু হবে, তা এখনও স্পষ্ট করেনি ইউপিআই নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা ন্যাশনাল পেমেন্টস কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া (এনপিসিআই)।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ ০৬:০২

ইউপিআই বা ইউনিফায়েড পেমেন্টস ইন্টারফেসে ডিজিটাল লেনদেনের উপর মাসুল চালুর সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিত রাখল কেন্দ্র। মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট (এমডিআর) কার্যকর করার নির্ধারিত সময়সীমা পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নরেন্দ্র মোদী সরকার। ফলে উৎসবের মরসুমে স্বস্তি পেলেন খুচরো ব্যবসায়ীরা। তবে দীপাবলির পর ঠিক কবে থেকে এই মাসুল চালু হবে, তা এখনও স্পষ্ট করেনি ইউপিআই নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা ন্যাশনাল পেমেন্টস কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া (এনপিসিআই)।

প্রাথমিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ অক্টোবর থেকে ইউপিআই লেনদেনে এমডিআর চালুর কথা ছিল। ২,০০০ টাকার বেশি লেনদেনের ক্ষেত্রে ০.৪ শতাংশ হারে মাসুল ধার্য করার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। কিন্তু মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, সেই সময়সীমা পিছিয়ে দেওয়ার কথা ঘোষণা করে এনপিসিআই। সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, উৎসবের মরসুমের কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত। ইউপিআই ও পরিষেবা স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকেও এ বিষয়ে সম্মতি মিলেছে। দীপাবলির পর নতুন তারিখ জানিয়ে পৃথক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে।

গত ১৫ সেপ্টেম্বর স্মার্টফোনের মাধ্যমে ডিজিটাল লেনদেনে মাসুল চালুর ঘোষণা ঘিরে দেশজুড়ে বিতর্ক শুরু হয়। এমডিআরের খরচ ক্রেতাদের বহন করতে হবে, নাকি ব্যবসায়ীদের—তা নিয়ে তৈরি হয়েছিল বিভ্রান্তি। পরে এনপিসিআই স্পষ্ট করে জানায়, এই মাসুলের জন্য সাধারণ গ্রাহকদের অতিরিক্ত টাকা দিতে হবে না। খরচ বহন করতে হবে ব্যবসায়ীদেরই।

প্রতি বছর অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত উৎসবের মরসুমে দেশের বাজারে কেনাকাটা বাড়ে। ফলে এই সময়ে ডিজিটাল লেনদেনের পরিমাণও উল্লেখযোগ্য ভাবে বৃদ্ধি পায়। আর্থিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, উৎসবের মরসুমে এমডিআর চালু করে অতিরিক্ত রাজস্ব আদায়ের পরিকল্পনা ছিল সরকারের। তবে মাসুলের ঘোষণার পরেই আপত্তি জানায় একাধিক বণিক সংগঠন।

তাদের বক্তব্য, এমডিআর চালু হলে ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি পেমেন্ট পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলির উপরেও আর্থিক চাপ বাড়তে পারে। পাশাপাশি, নতুন ব্যবস্থা কার্যকর করতে ইউপিআইয়ের প্রযুক্তিগত পরিকাঠামোয় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে হবে। ফলে বণিক সংগঠনগুলির আপত্তি এবং প্রযুক্তিগত প্রস্তুতির বিষয়টিও সময়সীমা পিছিয়ে দেওয়ার অন্যতম কারণ হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। আপাতত দীপাবলি পর্যন্ত ইউপিআই লেনদেনে নতুন মাসুল চালুর অনিশ্চয়তা কাটলেও, পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য এনপিসিআইয়ের ঘোষণার দিকেই তাকিয়ে সংশ্লিষ্ট মহল।


Share    

UPI